Showing posts with label ভালোবাসা. Show all posts
Showing posts with label ভালোবাসা. Show all posts

Thursday, February 29, 2024

যদি চায়ের কাপেতে জমে নিরবতা

ক্রিং ক্রিং ক্রিং ফোনটা বেজেই চলছে। মাহিন ফোনটি রিসিভ করতেই ওপার থেকে ইকবাল বলে মামা কোথায় তুই?

মাহিন: এইতো মামা স্কুল থেকে এলাম, কিছু কি বলবি। 
ইকবাল: রুদ্র দাঁ' র ছাদে আয় বিকালে আড্ডা দিবো, নসু মামা ও থাকবে। আবার মৃন্ময়ী রা আসছে। 
মাহিন: আচ্ছা দেখি কি করি।

রুদ্র'র ছাদে বিকালে আড্ডা জমে উঠেছে, মাহিন, ইকবাল রুদ্র দাঁ সবাই এসেছে। একটু পরে এসেছে মৃন্ময়ী আর তার বান্ধবী জোজো ও শৈপিল। মৃন্ময়ীকে দেখে মাহিন একটু হোচট খায়। কারন সে আগে স্কুল ড্রেসে তাকে দেখেছে কিন্তু এভাবে শাড়ি পরা কখনোই দেখেনাই। মাহিন মৃন্ময়ীর সামনে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। 

শাহেদ স্যারের প্রাইভেট পড়ে বের হলেই ঝুম বৃষ্টি, মাহিন ছাতা নেয়নি সেদিন। কেউ কেউ বাসায় না গিয়ে বৃষ্টি কমার অপেক্ষায় প্রাইভেট শেষ হলেও রুমে অপেক্ষা করছিলো কেউ বা চলে গেছে। মাহিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছিলো। এমন সময় কেউ এসে পাশে দাড়ালো। মাহিন পরিচিত সেন্ট পেয়ে মুখ ঘুরিয়েই দেখে মৃন্ময়ী। 
মাহিন তোতলায় আর বলে, কি খবর, কেমন আছো? মৃন্ময়ী হেসে বলে এই তো ভালো, এরকম তোতলাচ্ছো কেনো, আমি কি বাঘ না ভালুক। বলে হাসতে থাকে। মাহিনের বুকে আবারো অদৃশ্য ঝড়। কোমরে দুই হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লাস্যময়ী মৃন্ময়ীর দিকে তাকিয়ে থেকে ঝড়ের প্রাবল্য অনুভব করে মাহিন। 

মৃন্ময়ী বলে, তোমার ব্যাগে তো ছাতা আছে, আমাকে পৌঁছে দিয়ে আসোতো বাসায়, জরুরি কিছু কাজ আছে। মাহিন ঠিক আছে বলেই ছাতা বের করে মৃন্ময়ী কে নিয়ে রওনা হয়। কিন্তু মাহিন একটু দূরে দূরে হাটছিলো। হঠাৎ মৃন্ময়ী ওর হাত টেনে ধরে গায়ের সাথে মিশিয়ে দিয়ে বলে বৃষ্টিতে ভিজে যাবেতো। বলে গায়ে গা মিশিয়ে চলতে থাকে। মাহিনের তো বুকে হাতুড়ি পেটা হচ্ছে। বৃষ্টির জল তার গায়ে না পড়লেও মৃন্ময়ীর ছোঁয়ায় তার অন্তরে ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেই ঝড় তার বুক পর্যন্ত কাপিয়ে দিচ্ছে। শুধু মনে হচ্ছে এই বৃষ্টি যদি অনন্তকাল ধরে চলতো আর মৃন্ময়ীও তার পাশে এভাবে থাকতো চিরকাল। মৃন্ময়ীকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসার সময় মৃন্ময়ী বলে "মাহিন তোমার ফোন নাম্বার টা দিয়ে যাও তো কখনো ইচ্ছে হলে কল দিতে হতে পারে"। মাহিন ফোন নাম্বার দিয়ে চলে আসে।

সেদিন রাতে, মাহিনের ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে একটা মেসেজ আসে, " আমি মৃন্ময়ী" মাহিন তো খুবই অবাক, সে সাথে সাথে টেক্সট করে কেমন আছো? 
ওপাশ থেকে উত্তর আসে এইতো ভালো, তুমি কেমন?
মাহিন লিখে- ভালো আছি, এদিকে বুকে তার হাতুড়ি পেটা হচ্ছে। 
এভাবে চলতে থাকে টেক্সট। প্রতি রাতেই। অজস্র মেসেজে তাদের সময় কিভাবে মাঝরাত হয়ে যায়। তার পর ঘুমিয়ে যায় মাহিন।

এরমাঝে বন্ধু ইকবালের জন্মদিন। আয়োজন করা হয় ইয়োলো রেস্টুরেন্টে। মাহিন, মৃন্ময়ী, মৃন্ময়ীর দুই বান্ধবী জোজো আর শৈপিল, নসু মামা আর রুদ্র দাঁ সবাই আসে। কেক কাটা হয়। ইকবাল আর মৃন্ময়ী খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে একে অপরকে কেক খাইয়ে দেয়। এটা দেখে সবাই হাত তালি দেয় কিন্তু মাহিন হাত তালি দিলেও অনুভব করে তার বুকের ভেতর কেমন যেনো ফাকা ফাকা লাগতেছে। তাদের কেক পার্টি শেষ হলে ইয়োলো রেস্টুরেন্টের কার্ণিশে তারা ছবি তুলতে যায়। ছবি তুলার জন্যই এই কার্ণিশ টা করা হয়েছে।
এখানে উঠার সময় ইকবাল, নসু মামা, রুদ্র দাঁ সকলেই উঠে গেলেও মৃন্ময়ীদের উঠতে একটু কষ্ট হচ্ছিলো চিকন যায়গা দিয়ে। মাহিন হাত বাড়িয়ে হেল্প করতে গেলে জোজো হঠাৎ বলে উঠে মেয়ে দেখলেই সাহায্য করতে আসো আগ বাড়িয়ে। এগুলা আমরা বুঝি। সব ছেলেদেরই আমার চেনা আছে। এ কথা শুনে সকলেই হেসে উঠে।

নসু মামা হঠাৎ বলে মাহিন মেয়েদের একটু বেশিই হেল্প করতে চায়। সকলেই হাসে। 
এদিকে সব শুনেও মাহিন চুপ চাপ ই থাকে। সে ৪ তলার কার্ণিশে দাঁড়ানো মৃন্ময়ীর বাতাসে চুল উড়া দেখছে। সে মনে মনে ভেবে নেয় যে মৃন্ময়ীকে সে একদিন তার মনের কথা বলবে।

গ্রীষ্মের বন্ধ চলছে। সবাই বাসায় যার যার মতো পড়াশোনা আর ঘুরাঘুরি করে সময় কাটাচ্ছে। আবার একদিন ইকবাল তাদেরকে আড্ডা দেওয়ার জন্য ডাকে রুদ্র দাঁর বাসার ছাদে। সেদিন বিকালে মাহিন আসে, নসু মামা ও আসে, মৃন্ময়ীদের আসবার কথা থাকলেও তারা তখনও পৌঁছায়নি। নসু মামা বয়সে রুদ্র দাঁর চেয়ে বড় হলেও অনেক আড্ডা প্রিয় একজন মানুষ তাই সহজেই স্কুল পড়ুয়া ছেলেগুলোর সাথে মিশে থাকতে পারে। রুদ্র দাঁ তার সিগারেট ধরিয়ে একটু পরে মাহিনের হাতে দিলে মাহিন সেটা ইকবাল কে এগিয়ে দেয়। কারন সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস তার নেই। এটা দেখে নসু মামা একটু জোক্স করে বলে আরে এক টান নিয়েই দেখো, একটু আধটু খেলে সবাই মরে যায়না। সবাই হেসে উঠে, মাহিন কোনোভাবেই নিতে চায়না কিন্তু সবার জোরাজুরিতে এক টান নিতেই সেখানে চলে আসে মৃন্ময়ীরা। এদিকে ওদের দেখে একটু অপ্রস্তুত হয়ে মাহিন কাশতে থাকে। মৃন্ময়ীরাও এসে সিগারেট ধরায় আর হাসাহাসি করতে থাকে।

সেদিন সন্ধ্যা নামলে মৃন্ময়ীরা চলে যায় আর ইকবাল ও মাহিন বাসার পথ ধরে। যেতে যেতে ইকবাল তাকে মৃন্ময়ীর অনেক গল্প শুনায়। মাহিন সব চুপচাপ শুনে আর ভাবে ইকবাল এতো কথা কিভাবে জানে। তাহলে কি ইকবালের সাথে মৃন্ময়ীর কোনো সম্পর্ক আছে? সে সাহস করে ইকবাল কে প্রশ্ন টা করতে পারেনা, কারন ইকবালের উত্তর যদি হ্যা হয় তাহলে সে কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারবেনা। অবশ্য ইকবাল নিজে থেকেই বলে যে মৃন্ময়ীকে সে ভালোবাসে।

ইকবালের কাছ থেকে এমন কথা শুনার পরে মাহিন অনেকটাই হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু ইকবালকে সে কিছুই বলেনা। কারন তার কাছে ভালোবাসার তুলনায় বন্ধুত্বটা অনেক বেশি কিছু ছিলো। সেদিন রাতে বাসায় ফিরে মাহিন চুপচাপ করে ভাবতে থাকে তার বিগত সময় গুলোর কথা। মৃন্ময়ীর মেসেজের রিপ্লাই ও দেয়না সেদিন মাহিন। 

মৃন্ময়ী সকাল থেকেই মাহিন কে কল দিচ্ছে কিন্তু মাহিন কল।রিসিভ করেনা। মাহিন টেবিলে বসে দেখছে একের পর এক কল গুলো বেজে বেজে শেষ হয়ে যাচ্ছে কিভাবে। 

কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ একটা আননোন নাম্বারের ফোন। মাহিন দ্রুত কল রিসিভ করলো কারন দারাজ থেকে তার একটা পার্সেল আসবার কথা। কিন্তু কল রিসিভ করতেই ওপার থেকে ভেসে এলো ঝাঝালো কন্ঠ মেয়েলী গলায়, "তোকে কত বার কল দিচ্ছি দেখস না, নাকি ইচ্ছে করেই কল ধরিস না, যে এখন কল দেওয়া মাত্র রিসিভ করলি?"
মাহিন স্তদ্ধ হয়ে গেলো, তার বুঝতে বাকি রইলোনা এটা মৃন্ময়ী। ওদিক থেকে মৃন্ময়ী কথা বলেই যাচ্ছে। মাহিনের কানে কথা যাচ্ছে বটে কিন্তু জবাব দেওয়ার মতো কিছু সে খুঁজে পাচ্ছেনা। মাহিন কে একেবারে চুপ থাকতে দেখে মৃন্ময়ী বললো, কিরে তুই কথা বলস না কেনো? 
এবার মাহিন বললো, "বলার অনেক কিছুই তো ছিলো, কিন্তু আর বলা হবেনা" বলেই কল কেটে দিলো।
মৃন্ময়ী হতভম্ব হয়ে গেলো, আর ভাবলো, তাহলে কি এদিকে অজান্তেই কেউ জ্বলে পুড়ে গেলো, কিন্তু সে আগে দেখেও বুঝলোনা।


অনেকদিন আর আড্ডায় যায়না মাহিন। স্কুল আর বাড়ি এভাবেই কাটছে সময়। কিছুদিন পরে, ইকবাল মাহিনকে ফোন দিলো।। ফোন দিয়ে বললো তোর সাথে কিছু কথা আছে রে আমার। সন্ধার পরে প্লিজ দেখা কর। মাহিন রাজি হলো। কিন্তু এক বুক হতাশা তার ভেতর। ইকবাল কি বলবে সেটা নিয়েই সে দুশ্চিন্তায় আছে।

সন্ধার পরে চায়ের দোকান থেকে দুই কাপ চা নিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে মাহিন ইকবালকে জিজ্ঞাসা করলো, বল কি বলবি। 
ইকবাল, "তুই কি জানিস মৃন্ময়ীর সাথে আমার সম্পর্ক চলছে?"
মাহিন, "হ্যা জানি তো, কেনো কি হয়েছে?"
ইকবাল, "মৃন্ময়ীর সাথে আমি আর সম্পর্ক রাখতে চাইনা, ও আমাকে বুঝেইনা, সম্পর্কের গভীরতাই বুঝেনা ও"
মাহিনের মনে মনে কেনো জানি বসন্তের হাওয়া বইতে লাগলো, তবুও মুখের ভাব রেখেই জিজ্ঞাসা করলো, "কি জন্য, সেটা তো বল, দেখি তোকে হেল্প করা যায় কিনা"
ইকবাল, "না-রে তেমন কিছু নয়। একটা রিলেশনে বর্তমান যুগে কিছু পার্সোনাল সময়ের প্রয়োজন আছে। যেহেতু ভালোবাসি তাই কিছুটা একান্ত সময় তো চাইতেই পারি, কিন্তু ও একেবারেই চুপ চাপ কিছুতেই আমাকে সুযোগ দেয়না। অথচ তার নাকি তার কাজিনের সাথে শারিরীক সম্পর্ক ও ছিলো" 
মাহিন কেমন যেনো চুপসে গেলো, তবুও বললো, "মামা কথা বলে দেখি, কি করা যায়।"
ইকবাল, "তুই আমার পক্ষ নিয়ে আর কথা বলতে যাসনা, তুই কথা বলবি বল। আমি ব্রেক আপ করে নিয়েছি"


মাহিন আগের মতোই আড্ডায় যায়না। সপ্তাহ খানেক পর আবার মৃন্ময়ীর ফোন, 
ফোন টা দেখতেই মাহিন রিসিভ করলো, "হেলো"
ওদিক থেকে কন্ঠস্বরে আকুলতা, "দেখা করবে একটু সন্ধার পরে সাগুফতায়"
মাহিন না বলতে যেয়েও পারলোনা, বললো, "ঠিক আছে আসবো আমি"

সন্ধার পরে সাগুফতায় দুজনে আসলো, মৃন্ময়ী কেমন যেনো শুকিয়ে গেছে, নীল একটা শাড়ি পরে এসেছে দেখা করতে। মাহিন তাকে দেখে যেনো চোখ ফেরাতে পারছিলোনা। জিজ্ঞাসা করলো, কেমন আছো মেঘা। 
মৃন্ময়ী অবাক হয়ে বললো, মেঘা মানে, আমি তো মৃন্ময়ী।।
মাহিন বললো, কোনো এক বাদল দিনে এক মেঘবালিকার সাথে হেটেছিলাম বৃষ্টিস্নাত রাস্তায়। তার ছিলো মেঘ কালো চুল, সেদিন ই মনে হয়েছিলো এই মেঘবালিকাটাকে চিরকাল পাশে নিয়ে চলতে চাই জীবনের শেষ পর্যন্ত।
মৃন্ময়ী কথা বলছেনা, চুপ করে আছে। 
মাহিন আবারো বললো, সে কি চুপ করেই থাকবে না-কি আমার সাথে। 
মৃন্ময়ী বললো, "তুমি কি বলতে চাইছো আমি জানি, কিন্তু তোমার বন্ধু ইকবাল বলেছেতো তোমাকে যে আমি ভালো মেয়ে নই, শুধু তোমাকেই না সে সকলকেই বলেছে এমন কথা"
মাহিন বললো, আমি কি বলেছি তোমায় এসব?
মৃন্ময়ী বললো, না- কিন্তু কেনো তুমি বলছোনা
মাহিন বললো, আমি তোমার অতীত নিয়ে কি করবো, আল্লাহ চাইলে ক্ষমা করে দিবেন। তুমি যদি ভুল করেও থাকো, তবুও এখন তো করছোনা
মৃন্ময়ী বললো, একটা সত্যি কথা বলি তোমাকে, যেহেতু তুমি বিশ্বাস করেছো আমায়। আমার আসলে এমন কোনো ঘটনাই নেই। বরং তোমার বন্ধু আমাকে তার সাথে একান্ত সময় কাটাতে বলছিলো তাই আমি তাকে বাঁধা দেওয়ার জন্যই এমন টা বলেছিলাম। 
মাহিন বললো, তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ।
মৃন্ময়ী বললো, "কি চলে যাবে না-কি?"
মাহিন বললো, "হ্যা যাবোই তো, কিন্তু আজ যে শুনতে চাই আমার বুকে একটা পাখিকে আটকাতে চাই, কিন্তু সেই খাচার তো দরজা নেই। পাখি কি থাকবে আজীবন, নাকি বেরিয়ে যাবে। "
মৃন্ময়ী চুপ হয়ে থাকলো। কিছুই বলছেনা। মাথা নিচু করে আছে
মাহিন তার দিকে তাকিয়ে দেখে মৃন্ময়ীর চোখে পানি, কিছুই বলছেনা। মাহিন তার হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দিলো আর বললো, "চলোনা আমার মেঘবালিকা তোমায় নিয়ে হাটি চিরকাল। তোমায় পরম যত্নে বুকে ধারণ করে রাখবো চিরকাল, কখনো ছেড়ে যাবেনা তো আমায়"
মৃন্ময়ী মাহিনের হাত ধরলো আর বললো, চলো যাই।।

তার পর কেটে গেলো জীবনের ১২ টি বসন্ত। ইকবাল মালয়েশিয়া থেকে এসে মাহিনের বাসায় বেড়াতে এসেছে। মাহিন এখন সরকারী চাকরি করে। মাহিনের বাসায় মৃন্ময়ীকে দেখে তো সে অবাক।
খাওয়া দাওয়া শেষে এক সময় ফাঁকা পেয়ে ইকবাল মাহিনকে বললো, "কিরে মাহিন তোকে সব বললাম ওর চরিত্র সম্পর্কে, তবুও কেমনে কি এটা করলি"
মাহিন বললো, "সবাই তো জিততে চায়, আমি না হয় মৃন্ময়ীকে নিয়ে ঠকেই গিয়েছি" মৃন্ময়ী সেই সময় রুমে ঢুকেই সব শুনতে পেলো। ইকবাল কথা না বাড়িয়ে চলে গেলো।

সেদিন রাতে ছাদে চন্দ্রালোকিত চারিদিক।। একটা দোলনাই মাহিন আর মৃন্ময়ী দুই কাপ চায়ে ঠোট লাগিয়ে করছে রাত্রি বিলাস। নীল শাড়ি চাঁদের আলোয় আরো কালো হয়ে ফুটে উঠছে মৃন্ময়ীর শরীরে। তাকে করে তুলেছে অপার্থিব অপরুপা।। চারিদিকে শুনশান, যেনো চায়ের কাপেও জমেছে অজস্র নিরবতা। মাহিন তাকিয়ে আছে মৃন্ময়ীর দিকে, সেই মুগ্ধতা, যা এক যুগ পরেও পরিবর্তন হয়নাই, তৃপ্তি মেটেনাই।
হঠাৎ নিরবতা ভেঙে মৃন্ময়ী প্রশ্ন করলো, "আমাকে নিয়ে তাইলে ঠকেই গেছো তাইনা"
মাহিন চায়ের কাপ নামিয়ে রাখলো দোলনার পাশে, আর বললো, "ঠকেই তো গিয়েছি, মানুষ বার বার নতুনের মায়ায় পড়ে, কত বৈচিত্র‍্য আনে জীবনে। আর আমি, দেখো এক মেঘবালিকার মায়ায় পড়ে প্রতিদিন নতুন নতুন করে তারই মায়াই পড়ি"
মৃন্ময়ী মাহিনের ঠোটে হাত দিয়ে বললো, থামো এত বলতে নেই। আমার ভয় হয় যদি সময় শেষ হয়ে যায়।
মাহিন মুচকি তাকে বুকে টেনে নেয়, দুজনেই ঘুমিয়ে যায় দোলনায়। সৃষ্টিকর্তার অপার রহমত ঝরে পড়ে তাদের উপর। লেখকের শত সহস্র শুভকামনা তাদের জন্য। 

Writer: Md. Abidur Rahman, DU-IBA, based on a story of Mahbub Alam

Thursday, November 24, 2022

যে স্বপ্ন দেখা কখনোই শেষ হয়না

রাত বাজে ৩ টা,, ৬ তলায় থাকা একটি ব্যালকনি থেকে কেউ একজন রাতের আকাশ দেখছে। পাশের বাসার বিড়াল টি মাঝে মাঝে মিউ মিউ করছে সম্ভবত ব্যালকনিতে কাউকে দেখেই করছে। সামনের বাসার ছাদে ফুটে থাকা হাস্নাহেনা ফুলের সেন্ট আসছে। চাঁদের আলোয় আলোকিত চারিদিক। মায়াময় লাগছে সবকিছু।  ছেলেটি আনমনে সব যেনো দেখছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই রাতের নিরবতা পূর্ণ সৌন্দর্যের প্রেমে মজেছেন কবি সাহিত্যিক রা।  কোনো দিকে খেয়াল নেই। হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘেউ ঘেউ করে উঠলো দূরের দুটি কুকুর। 


এমন সময়-- "শিশির, ঐ শিশির! তুমি কই?" রুমের ভেতর থেকে ডাক দিয়ে বললো একটি মেয়ে। 

ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি জবাব দিলো এইতো ব্যালকনিতে। 

ভেতর থেকে আর জবাব এলোনা। কিছুক্ষণ পরে একটি মেয়েলী ছায়া রুমের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে প্রশ্ন করলো, এই এতো রাতে এখানে কেনো। শরীর খারাপ করবে, ভেতরে চলো। বলে জবাবের অপেক্ষা না করেই একরকম টানতে টানতে ছেলেটিকে ভেতরে টেনে নিয়ে গেলো। 

এতক্ষণ যাদের কথা বলছিলাম, তারা হলো সোনেলা আর শিশির। দুজনে বিয়ে করেছে সম্প্রতি। একই সাথে পড়তো দুজনেই। চোখাচোখি, বন্ধুত্ব, ভালোলাগা,,লুকোচুরি,, প্রণয় তার পর বিবাহ। ফলস্বরূপ দুই পরিবারের কেউই পুরোপুরি মেনে নেয়নি। তবে পরিস্থিতি বুঝাচ্ছে যে মেনে নিবে একসময়। তাদের সংসার খারাপ চলছেনা। শিশির জব করে, তাতে যা স্যালারি আসে, তাতে ভালোভাবেই চলে যায় দিন। বাসাভাড়া, খাওয়া দাওয়া সব মিলিয়ে ২০ হাজার টাকার মতো লাগে দুজনের সারা মাসে। 


হাতে সামান্যই থাকে তবুও শিশির একে একে সোনেলার পছন্দ গুলা পুরণ করার চেষ্টা করে। সোনেলা কিছুই চায়না প্রয়োজনের বাইরে।  অফিস থেকে আসার পরেই ফ্রেশ হয়ে শিশির সোনেলাকে বলে চলো একটু হেটে আসি। সোনেলাও ঝটপট রেডি হয়ে নেয়। বাসা থেকে বের হয়ে সোনেলাকে ফুচকা খাওয়ায় কোনোদিন, আবার কোনোদিন বা আইসক্রিম। অথচ শিশির কিছুই খায়না শুধু চা ছাড়া। কারন তার ওগুলা ভালো লাগেনা। মাঝে মাঝে সোনেলা জোর করে খাইয়ে দেয় কিছু। তার পর দুজনে দুজনের হাত মুঠি করে ধরে বাসায় ফিরে আসে৷


শিশির দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পা ছড়িয়ে, সোনেলা এসে বিছানার অপর প্রান্তে বসে৷ শিশির কিছুক্ষণ পরে সোনেলাকে বলে, এই এদিকে এসো একটু কাজ আছে। সোনেলা মৃদু হেসে তার দিকে এগিয়ে যায়। কারন সে জানে শিশির কি করবে, এটা তার নিত্য দিনের অভ্যেস। 


কাছে গেলেই শিশির সোনেলাকে টেনে শুইয়ে দিবে কোলের উপর। তার পর মাথার চুল গুলা খুলে দিবে। আস্তে আস্তে চুলে বিলি কাটবে আর গল্প করবে। আর একে একে প্রশংসা করবে সোনেলার চোখের। টুপ করে মুখ নিচু করে দু চোখে চুমু খাবে আর বলবে, তোমার চোখেই যে আমার মরন হয়ে যাবে গো ঘুমবেবি। সোনেলাকে অনেক আদুরে নামে ডাকে শিশির। 

সোনেলা কৃত্তিম রাগ দেখিয়ে, মুখ ঘুরিয়ে বলবে- ধ্যাত, খালি আদিখ্যেতা, ভাল্লাগেনা। 

শিশির আবার তাকে জাপটে ধরবে। মুখ ফিরায় নিবে তার পর সারা মুখে চুমু দিয়ে ভরে দিবে। আস্তে আস্তে সোনেলার মিথ্যা রাগ ভাঙ্গাবে। 


এক বছর কেটে যায়। নভেম্বর মাস। বাচ্চা কনসিভ করেছে সোনেলা। শিশির খুব খুশি। সোনেলাকে বলে মাত্র বাচ্চা কনসিভ হয়েছে, সময় থাকতে চলোনা পাগলী ঘুরে আসি চট্টগ্রাম। সোনেলা খুব খুশি হয়ে যায়।

১১ই নভেম্বর, শিশির সেদিন রাতের টিকিট কাটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। রাত ১০:৪৫ এ গাড়ি। আরামবাগ কাউন্টার থেকে, Soudia Mercedes-Benz এ। সোনেলার আনন্দ যেনো আর ধরেনা। কারন সে এর আগে সাগর আর পাহাড় ছবিতেই দেখেছে শুধুমাত্র। আর সোনেলার আনন্দ দেখে শিশিরের মন পাগল হয়ে যাচ্ছে। রাত ৮:৩০ এ বাসা থেকে বের হয়ে দুজনে উবার নিয়ে চলে গেলো বাস কাউন্টারে। 


শিশির দু প্যাকেট চিপস কিনলো, সাথে কোকাকোলা। গাড়িতে উঠার সাথে সাথেই শুরু হলো বৃষ্টি। সৌদিয়া বাস তার ক্ল্যাসিকাল স্পিডে চলা শুরু করলো। সোনেলা প্রচন্ড ভাবে ফিল করছিলো তার সময় গুলা। শিশিরের গায়ে মাথা রেখে বললো- "আচ্ছা শিশির আমি তোমার কে হই।"

 শিশির তার মাথা তুলে দিলো। তার পর সোনেলার মুখ খানি নিজের দিকে ফিরিয়ে চোখে চোখ রেখে বললো, "তুমি আমার অক্সিজেন। আমার সবটুকুই তুমি। তুমি শুধু আমার কলিজার টুকরাই নও বরং পুরো কলিজাটাই তুমি।" 

সোনেলার দুচোখে পানি, শিশির তার হাত দিয়ে পানি গুলা মুছে এনে নিজের মুখে মাখিয়ে নিলো। বললো, "এই পাগলী! কান্না করোনা, তোমার কান্না আমার সয়না লক্ষীটি, আমার বুক ভেঙে যায়, প্লিজ একটু হাসো।" ফিক করে হেসে দিলো সোনেলা। শিশির ও সোনেলাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো। রাতের বৃষ্টি ভেজা পথ দিয়ে সাই সাই করে গাড়ি ছুটে চলছে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে। 


রাত প্রায় ৪ টার দিকে চৌদ্দগ্রাম টাইমস্কয়ার হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে গাড়ি থামলো ২০ মিনিটের জন্য। সোনেলা আর শিশির ও নামলো। সোনেলার হাত ধরে শিশির লেডিস ওয়াশরুমের সামনে এলো। সোনেলা ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এলো। দুজনে মিলে হালকা কিছু নাস্তা করলো। যদিও বুফে ফ্রি ছিলো টিকিটের সাথেই। কিন্তু শিশির আর সোনেলা সবসময়ই সংযমি। তার পর রেস্টুরেন্টের বাইরে এলো। এখন আর বৃষ্টি নেই। এমনিতেই শীতের শুরু তার উপরে বৃষ্টি, তাই প্রচুর কনকনে বাতাস। সোনেলা হালকা কাপছিলো।  শিশির দু কাপ কফি নেয়। দুজনেই গরম কফিতে চুমুক দিয়ে গরম আর ঠান্ডার ফিলিংস নিতে থাকে। কফি শেষ করে একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে হাসে। শিশির বলে, "শুনো তোমার হাসিতে আমি আবার পাগল হয়ে যাবো। এতো মুগ্ধতা মায়া কেনো গো তোমার হাসিতে।" 

সোনেলা লজ্জা পেয়ে আবার কৃত্তিম রাগের অভিনয় করে ধাক্কা দেয় শিশিরকে আর বলে, "চলো গাড়িতে উঠি। সময় শেষ"

------------------------------------------------------------


সকাল ৭ টার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছে গাড়ি। অলঙ্কার কাউন্টারে নেমে দুজনে সিএনজি নিয়ে চলে যায় টেকনিক্যাল মোড়ে। সেখান থেকে একটু দূরেই শিশিরের মামার বাসা। এই মামা অবশ্য শিশিরের বিয়ের কথা শুনার পর থেকেই পারিবারিক ভাবে দুজনকে এক করার চেষ্টা করছিলেন। তাই তার বাসায় যেতে শিশিরের সমস্যা নেই। আর আসবার আগেই শিশির আর সোনেলা জানিয়ে এসেছিলো এখানে। 


তারা কিছু মিষ্টি আর ফল কিনে নেয়। তার পরে শিশিরের মামার বাসায় পৌঁছালে সেখানে তারা খুব উষ্ণ ভাবে তাদেরকে স্বাগতম জানায়। এতো আপ্যায়ন দেখে সোনেলা আর শিশির দুজনেই লজ্জা পায়। 


যাই হোক, সারাদিন গল্প, টাইমলি খাওয়া দাওয়া আর এর মাঝে শিশিরের মামাতো বোন নীলার সাথে সোনেলার প্রচুর খাতির জন্মে যায়। সন্ধার দিকে সোনেলা শিশিরকে বলে, "চলোনা একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি। রাতের শহর টা দেখে আসি।" শিশির রাজি হয়। দুজনে মামা মামিকে বলে বাইরে বের হতে গেলেই নীলা এসে আবদার করে তাকে সাথে নেওয়ার। শিশির কিছু বলার আগেই সোনেলা বলে, "সমস্যা নেই, রেডি হয়ে এসো।" নীলা ১০ মিনিটের মাঝে রেডি হয়ে চলে।এলো। 

তিনজনে একটা সি এন জি নিয়ে চলে এলো দামপাড়া। সেখানে নেমে তারা ঝালমুড়ি খায়। সোনেলা আর নীলা যেনো মনে হচ্ছিলো দুই বান্ধবী। শিশির যে সাথে আছে তার কথা যেনো মনেই নেই। রাস্তায় পাশে থাকা হকারের কাছ থেকে সোনেলা এটা ওটা দেখে, এক গোছা লাল চুড়ি, নীল চুড়ি দেখে। তার পরে একটা পায়েল দেখে। হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখার পর সোনেলা কিছুই নেয়না, সব ফিরিয়ে দেয় দোকানীকে। শিশির সবই লক্ষ্য করে কিন্তু কিছুই বলেনা। ওদিকে নীলা এক গোছা চুড়ি নেয়, তার পর চুল বাধা ফিতা নেয়। নীলা বিল দিতে গেলেই সোনেলা বাধা দেয় বলে, আজ তোমার ভাইয়া আছে ভাইয়া দেবে- এই ভাইয়া বিল দাও। শিশির সোনেলার মাথায় গাট্টা মেরে বলে নীলাকে পেয়েই আমাকে ভাইয়া বলা হচ্ছে, বলে হেসে বিল দেয় দোকানীকে৷ তার পর সোনেলাকে বলে তুমি কিছু নিবেনা। সোনেলা বলে নাহ, লাগবেনা। 


তার পর তারা ফুচকার দোকানে বসে। সোনেলা আর নীলাকে ফুচকা দিতে বলে শিশির বলে আমি একটু আসছি, বলে চলে যায়। শিশির যেতেই সোনেলা ভাবে, "কোথায় গেলো ও,"  তার পর আবার মনে মনে ভাবে হয়তো চাপ বেড়েছে। 


তাদের খাওয়া হতে না হতে শিশির ফিরে আসে। তার পর নীলা আর সোনেলার হাতে দুটা প্যাকেট ধরিয়ে দেয়। শিশির নীলা কে বলে, "এই প্যাকেটে তোমার জন্য একটা জামা, আর মামার জন্য একটা পাঞ্জাবী আর মামির জন্য একটা শাড়ি আছে। কখনোতো আগে দেওয়া হয়নাই তাই আজ দিলাম।" নীলা এক গাদা সংকোচভরা গালে বলে, "ভাইয়া কি দরকার ছিলো এসবের।" সোনেলা নীলার পিঠ চাপড়ে দেয় আর বলে, "আরে সমস্যা নেই।" নীলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। 

তার পর শিশির সোনেলা কে বলে, "তোমার জন্য ও একটি শাড়ি আছে, বাসায় যেয়ে দেখিও"


ঐ রাতে তারা বাসায় ফিরে আসার পরে ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে নেয়। শিশির আর সোনেলাকে নীলা তার রুমটাই ছেড়ে দিলো। সে যেয়ে তার স্টাডিরুমে, সাময়িক রেস্ট নেওয়ার সিঙ্গেল রুমে ঘুমিয়ে গেলো। এদিকে সোনেলা রুমে আসতেই দেখলো শিশির তাকে দেওয়া শাড়ির প্যাকটি হাতে ধরে বসে আছে। কাছে যেতেই শিশির বললো, "দেখি বিছানায় উঠে পা দুখানি এদিকে দাও গো একটু।" সোনেলা অবাক হয়ে বললো কেনো। শিশির বললো, এতো কথা বলো কেনো দাওনা গো প্লিজ। সোনেলা আর কথা না বাড়িয়ে পা দুখানি এগিয়ে দিলো। 

শিশির শাড়ির ব্যাগটি থেকে এক জোড়া পায়েল বের করে সোনেলার দু পায়ে পরিয়ে দিলো। তার পর এক গোছা নীল আর লাল চুড়ি বের করলো। তার পর দুই ভাগ করে এক সাথ করে সোনেলার দুই হাতে পরিয়ে দিলো। সোনেলা বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে গেছে। কারন সে সত্যিই এই চুড়ি আর পায়েল পছন্দ করেছিলো দোকানে। কিন্তু নীলা কিছু ভাববে ভেবে নেয়নাই। যদিও সামান্য দাম কিন্তু শিশির এই ছোট্ট ব্যাপারগুলাও খেয়াল করেছে তার। এটা ভেবে সে চুপ হয়ে মাথা নিচু করলো। 

শিশির তার থুতনি ধরে মাথাটা উচু করলো। দেখলো সোনেলার চোখে পানি। সোনেলার চোখে চোখ রেখে বললো শিশির, এই পাগলী শুনো। একটু দাঁড়াও তো এবার। সোনেলা উঠে দাঁড়ালো। শিশির সোনেলার পরনের শাড়িটি খুলে, আস্তে আস্তে সুন্দর করে নতুন কেনা শাড়িটি সোনেলাকে পরিয়ে দেয়। সুন্দর করে কুচি দিয়ে দেয় কোমরে। শাড়ি পরিয়ে সোনেলা কে বলে তুমি শুধুই আমার বেবি। আমি হাজার বছর তোমায় এমনে দেখতে পারি। বলেই সোনেলাকে জড়িয়ে ধরে। সোনেলার চোখে আবারও পানি এসে যায়। তার ছোট্ট বুকে এতো ভালোবাসা সইবে কিভাবে সে। এ পানি যে ভালোবাসার প্রকাশ। 


শিশির আবার সোনেলাকে বুকে মিশিয়ে ধরে জোরে, আর বলে তুমি যে আমার জীবনের সবটাই জুড়ে আছো। তোমার চোখের পানি যে আমার সহ্য হয়না।

এই কথাটা শিশির বিয়ের পর থেকে প্রতিদিনই বলে। আর সোনেলা তার জীবনে এই মুহূর্তে গুলাকে অত্যন্ত আবেগ ভরে অনুভব করে। দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে। ভালোবাসার নিবিড় পরশ দুজনের অন্তরকে একদম শীতল করে দেয়। 

তারা ঘুমিয়ে পড়ে এক অপার্থিব ভালোলাগা নিয়ে। 

--------------------------------------------------------------

হঠাৎ, শিশিরের ঘুম ভেঙে যায়। শিশির নিজেকে আবিস্কার করে সেই ব্যালকনিতে। যে ব্যালকনি থেকে গল্পের শুরু হয়েছিলো। শিশির বুঝে যায় সে স্বপ্ন দেখছিলো এতক্ষণ।  শিশিরের দুচোখ জুড়ে আসে অশ্রু। কারন সোনেলা আর কেউ নয়, সোনেলা হলো শিশিরের একান্ত ভালোবাসার মানুষ। সোনেলা যে শিশিরের আত্মার আত্নীয়৷ তাই তো শিশিরের সব গুলা সপ্নেই সোনেলাই থাকে। কারন সে তার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে শুধু সোনেলাকেই ভালোবেসেছিলো। কিন্তু সোনেলা তো শিশিরকে চায়না। সে শিশিরকে ভালোবাসেনা। এসব ভাবতে ভাবতে আর তার দেখা সপ্নের কথা মনে করে দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়। আল্লাহর কাছে দু হাত উঠে প্রার্থনায় যেনো শিশির ফিরে পায় সোনেলাকে কোনো অবৈধভাবে নয় বরং সহধর্মিণী হিসেবেই।

লেখক পরিচিতি: Md. Abidur Rahman (AR Khan), B.S S (Economics), M.B.A (MIS- DU-IBA)

Wednesday, May 27, 2020

অসমাপ্তের সমাপ্ত গল্প- The Finished Story of an unfinished Goal

সামিয়ার আজ অফিসটা বড় খালি খালি লাগছে কেমন যেনো একবার এদিক ওদিক তাকাচ্ছে চোখে আকুলতা নিয়ে। সম্বিত ফিরে পেলো মোক্তার সাহেবের কথায় উনি আবার খুব হাস্যরসিক মানুষ আর অফিসের সকলের সাথেই খুব আন্তরিক। উনি বললেন কি ব্যাপার মামুনি নিল সাহেব আসেননি বুঝি। সামিয়া হেসে বললো না স্যার তেমন কিছু না কিন্তু নিলয় আজকে আসেনি কেনো।

মুক্তার সাহেব হলেন অফিসের ম্যানেজার, উনি বললেন আজ নিলয়ের খুব জ্বর তাই ছুটি নিয়েছে। সামিয়ার মুখটা কালো হয়ে গেলো শুনে। ও তাড়াতাড়ি কাজে মনযোগ দিলো আজকের মধ্যে আলফা গ্রুপের ফাইল গুলো দেখে দিতে হবে। সামিয়া নিলয় এরা দুজনেই মুলত প্রথমসারির একটা প্রাইভেট বিজনেস এন্যালাইসিস কোম্পানিতে জব করে। সামিয়া আর নিলয় একই ডেস্কে কাজ করে ওরা রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট সেকশনে। ওদের কাজও অনেক। তবে কাজ যতই হোক সামিয়া আর নিলয় কাজের ফাকে ফাকে নিজেদের গল্প ও শেয়ার করে নিয়েছে। আর অফিসে কেউ কারো ব্যাপারে নাক গলায় না। আর সামিয়া আর নিলয়ের ডেস্কে কাজের প্রচুর চাপ কিন্তু তারা খুবই আন্তরিক আর অন্যান্য দের থেকে ভালো পারফরম্যান্স দেখানোয় কোম্পানির মালিক সোবহান সাহেব আর ম্যানেজার মোক্তার সাহেব তাদেরকে আলাদা চোখেই দেখেন। মোক্তার সাহেব সম্পর্কে সোবহান  সাহেবের বড় চাচা তিনি অফিসের সকলকেই প্রায় তুমি করে বলেন।

সামিয়া নিজে থেকেই বড় হয়েছে বলতে গেলে এক চাচার ঘরে পালিত হয়েছে ছোটোবেলায়। কারন ক্লাস ফাইভে থাকার সময় সামিয়ার বাবা মা সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন তার পর চাচা সকল সম্পত্ত্বি নিজেই ভোগ দখল করেছেন বিনিময় হিসেবে SSC পর্যন্ত সামিয়াকে দেখভাল করেছেন এ কথা তো সকলেই জানে। কিন্তু তিনি এমন ভাব দেখান যে সামিয়ার বাবা মা কিছুই রেখে জাননি। তিনিই কোলে পিঠে করে বড় করেছেন, অবশ্য সামিয়াও মেনে নিয়েছে। ও লেখাপড়ায় ভালো ছিলো। শহরের বড় কলেজে বৃত্তিসহ চান্স হয়ে যায়। HSC এর পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ এ অনার্স মাষ্টার্স করেছে। আর নিলয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর IBA থেকে পড়াশোনা শেষ করে এই অফিসে চাকরি পেয়েছে। আর চাকরি পাওয়ার পরে দুজন এক সেকশনে হওয়ায় আর নিলয়ের উদাসিন স্বভাবের জন্য সামিয়ার সাথে ভালো সম্পর্ক। কেউ কারো সাথে প্রেম করে এমনটা নয়, কিন্তু অন্যেরা তাই মনে করে। 

তো সেদিন সামিয়া একা হাতেই বলতে গেলে দুজনের কাজ সামলে নেয়। বিকাল ৫ টায় অফিস থেকে বের হয়। ওদের অফিস ইসিবি মোড়ে। সামিয়ার বাসা কুড়িলে আর নিলয়ের বাসা নদ্দায়। সামিয়া আর নিলয় প্রতিদিন এক সাথেই বাসায় ফিরে আসে। সামিয়া নেমে যায় কুড়িলে আর নিলয় নামে নদ্দায়। আজকে কুড়িল পর্যন্ত এসে সামিয়া কি মনে করে নামলোনা। সে নদ্দা এসে নামে। নিলয়ের বাসা সে চিনে। বাসার নিচে এসে নিলয় কে ফোন দেয়।
হেল্লো নিল কই তুমি বাসায়?
"হ্যা সামিয়া বাসায় আজ খুব জ্বর তাই অফিসে যাইনি, কেমন আছো তুমি?"
সামিয়া-"আমি নিচে দাড়িয়ে আছি বাসার তোমাকে দেখতে আসছি"
নিলয় সাথে সাথে বিছানা থেকে উঠে পড়ে ব্যাস্ত হাতে বিছানাটা গুছায়, কারন যা এলোমেলো করে রেখেছে পুরো ইজ্জতের বারোটা বাজা সারা।
যাই হোক তার পরে, সামিয়াকে নিয়ে আসে রুমে। সামিয়া এসে হাত মুখ ধুয়ে বিছানার এক পাশে বসে। নিলয়ের কপালে হাত দিয়ে দেখে কপাল পুড়ছে তাপে। সামিয়া বলে কি তুমি তো আমাকে জানাতে পারতে সকালে।
নিলয় বলে, "তোমার তো অফিস ছিলো, আর তোমাকে জানালে তুমি কি মনে করতে ভেবেই জানাইনি।"
সামিয়া বলে, "নিল তুমি আসলেই যেনো কেমন, আমাকে জানালে কি এমন হতো,, আচ্ছা কি খাইছো সকাল থেকে তুমি?"
নিলয় বলে, আজ তো আর রান্না করতে ইচ্ছে হচ্ছেনা আর শরীর খুব খারাপ তাই বাইরেও যাইনি, বিস্কুট ছিলো মুড়ি ছিলো তাই খাইছি।
সামিয়া বলে শুয়ে পড় আমি দেখছি, কি করা যায়।
নিলয় বলে, "কেনো তুমি আর কি করবা, যাও বাসায় চলে যাও তুমিও অফিস করে ক্লান্ত, কিছু করতে হবেনা।"
সামিয়া বলে,, "চুপ থাকো, আমাকে উপদেশ দিতে হবেনা।"
নিলয় জানে এর পরে আর কোনো কথাই ও শুনবেনা তাই চুপ চাপ থাকে। 
সামিয়া বাসন কোসন ধুয়ে আলু ভর্তা ভাত চাপিয়ে দেয়, সাথে ডিম ভাজি। হাফ ঘন্টার মধ্যেই সব কমপ্লিট। করে বিছানার পাশে সব ঢেকে রেখে দরজা ভেতর থেকে লক করে বেরিয়ে যায় টেনে দিয়ে। কারন ততক্ষণে নিলয় ঘুমিয়ে গেছে।

নিলয়ের ঘুম ভাঙ্গে সামিয়ার ফোনে, ততক্ষণে রাত ৮ টা বেজে গেছে ও ঘুম থেকে উঠেই চারিদিকে দেখে লজ্জা পেয়ে যায় যে এত্ত কাজ করলো মেয়েটা অথচ তাকে বসতেও বললোনা, খেয়ে গেলেও তো পারতো। আসলে তো ওর ই দোষ অসময়ে ঘুমিয়ে পড়লো কেনো।
যাই হোক ওদিক থেকে সামিয়া বলে চলছে, "নিল উঠে পড়ো খেয়ে নাও, দেখো ভালো লাগবে, আর শোনো অবশ্যই খাবে কিন্তু আমার দিব্বি।
অনেক উৎকন্ঠা কিন্তু আবেগের সাথে কথা গুলো বলছে, শুনতে মনের ভেতরে ভালো লাগছে নিলয়ের। ২৬ বছর বয়সি এত বড় মেয়ে এমন ভাবে বলছে যেনো কত দিনের চেনা তার, কত অধিকারের সাথে বলছে। নিলয় বললো, " ঠিক আছে সামিয়া খেয়ে নিবো, কিন্তু তুমি চলে গেলে কেনো আমাকে ডাকতে পারতা এক সাথেই খাওয়া দাওয়া করতাম।" 
সামিয়ার কন্ঠে উচ্ছাসের প্রকাশ যেনো কথাটা তার কাছে ভালো লেগেছে, ও বললো, "এবার খেয়ে নাও তো নিল" কাল তো শুক্রবার আবার এসে রান্না করে দিয়ে যাবো।" 
নিলয় বলে "আচ্ছা এসো" এ কথা বলে ফোন রেখে দেয়, ফোনের দুই প্রান্তে থাকা দুটি হৃদয়েই যেনো কাশফুলের পরশ বুলিয়ে গেলো কেউ প্রকাশ করলোনা কেউ বুঝতেও পারলোনা কিন্তু দুজনেরই ঠোটের কোনে ফুটে উঠলো হাসি।

নিলয় হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসলো, ভাত আলু ভর্তা ডিম ভাজি সব খাওয়ার সময়ই যেনো মনে হচ্ছিলো এতে আলাদা একটা সেন্ট আসছে সামিয়ার। সামিয়ার হাতের ছোঁয়া লেগে আছে বলে মনে হচ্ছে। যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যতা নেই কিন্তু খেতেও বড় আবেগ মনে হচ্ছে নিলয়ের কাছে,,, তাহলে কি সে কোনো অজানা পথে পা বাড়াচ্ছে। অজান্তেই কেপে উঠলো মন, সামিয়া যদি এসব না ভাবে, তাহলে বড়ই খারাপ হবে, সামিয়া খুব ভালো মেয়ে সে অসময়ে যত্ন করছে আর নিলয় কি সব ভাবছে। মনটা বড্ড ছেলেমানুষী করছে মনকে বুঝালো সে।

পরের দিন, আবার সামিয়া এলো আজ সে অতিরিক্ত কাপড় চোপড় নিয়ে এসেছে। এসে জোর করেই নিলয়ের পরা কাপড় গুলো ধুয়ে নেড়ে দিলো তার পর রান্না করলো। রান্না শেষ করেই গোসল করে সাথে আনা অন্য সেট জামা কাপড় পরে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। নিলয়ের জ্বর আজ কম, সে জানে তার জ্বর কখনোই দুই দিনের বেশি যায়না। কাল থেকেই সে অফিসে যেতে পারবে। সামিয়াকে নিলয় বললো "আজ এক সাথে খেয়ে যাও"
 সামিয়া বললো, "না ইচ্ছে হচ্ছেনা।" 
কোনো অনুরোধেই শুনলোনা সে যখন বেরিয়ে যাবে, শেষ বারের মতো নিলয় বললো "সামিয়া আজ এক সাথে না খেয়ে গেলে এগুলো যেমন আছে তেমনই থাকবে।" বলে ডান হাত দিয়ে সামিয়ার বাম হাত টেনে ধরলো। নিলয়ের সারা শরীর সিরসির করে উঠলো কারন সে এভাবে আন্তরিক ভাবে কখনোই ওকে ধরেনাই। অফিসে কাজের ফাকে অনেক সময় ছোঁয়া লাগে কিন্তু এভাবে কখনোই ওর হাত ধরা হয়নাই। নিলয়ের মনে হলো সামিয়াও কেপে উঠলো, ও ফিরে তাকালো যেনো অসীম সাগরের মত এক জোড়া চোখ। ডান হাত ঘুরিয়ে নিজের হাত থেকে নিলয়ের হাত ছুটিয়ে নিয়ে নিজেই ধরলো নিলয়ের হাত বললো "আমি খেয়ে গেলে খুশি তুমি নিল।" 
নিলয় বললো, "খুশি কিনা জানিনা তবে আজ না খেয়ে গেলে আর তোমাকে আসতেও হবেনা আর আমি খাবোওনা এসব।" 
সামিয়া ওর ঠোটের উপর আংগুল রাখে আর বলে চলো খেয়ে নেই।

দুজনে খাওয়া দাওয়া শেষ করার পর থালা বাসন আবার ধুয়ে দিয়ে সামিয়া চলে গেলো। ওর পাল্টানো কাপড় গুলো ও নিলয়ের ভেজা জামা কাপড়ের পাশে ধুয়ে শুকাতে রেখে গেছে। সন্ধা হতে হতে নিলয়ের শরীর ঝরঝরে হয়ে গেলো। ব্যালকনিতে যেয়ে সামিয়ার কাপড় গুলোর সাথে মিশে দাড়ালো যেনো বড় ভালো লাগছে ওর। এক সময় দুই হাতে জামা কাপড় গুলো আঁকড়ে ধরলো সামিয়ার। নিলয় জানেনা কেনো এমন করছে ও। জামা কাপড় গুলো ইস্ত্রি করে সুন্দর করে ভাজ করে একটা শপিং ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলো ও। অফিসে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবে। 

শনিবার সুস্থই ছিলো নিলয়, এর মাঝে সামিয়া আর আসেনাই তবে ফোনে কথা হয়েছে। রবিবারে অফিসে গেলো নিলয় অফিসে যেতেই শুনলো চেয়ারম্যান স্যার মানে সোবহান সাহেব ডেকেছেন। সামিয়ার কাপড় সুদ্ধু শপিং ব্যাগটা সামিয়ার চেয়ারে রেখে ও দেখা করতে গেলো সামিয়া তখনও আসেনাই। সোবহান সাহেবের রুমে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতেই আন্তরিকতার সাথে সোবহান সাহেব বললেন মোক্তার সাহেব বললেন আপনি অসুস্থ তাহলে আপনি না আসলেও পারতেন আমি তো আপনাকে কখনও আটকাতাম না। নিলয় বললো স্যার আসলে বাসায় থাকতে ভালোলাগেনা আপনাদের সাথে দেখা হচ্ছে এটাই ভালো লাগছে আমার। সোবহান সাহেব হাসি মুখে বললেন আচ্ছা যান তবে বেশি কাজ করার দরকার নেই। 

নিলয় ফিরে এসে তার চেয়ারে বসতেই দেখে সামিয়াও চলে এসেছে। সামিয়া বললো কেমন আছো। নিলয়ের ছোট্ট উত্তর, "ভালো আছি, তুমি কেমন।" সামিয়া বললো ভালো, খাওয়া দাওয়া করতে পারছো। নিলয় সম্মতি সুচক মাথা নাড়লো। টিফিনের সময় অফিস রুমে স্বাভাবিক কেউ খায়না, নিষেধ নেই কিন্তু অফিসের চত্ত্বরটা অনেক সুন্দর আর ওখানে ছাতা দিয়ে ছায়া করা নান্দনিক বেঞ্চ পাতা থাকায় সবাই ওখানেই গল্প করতে করতে খায়। টিফিন আওয়ার শুরু হলেই নিলয় ওয়াশরুমে যায়, আর সবাই বেরিয়ে গেলে অফিশরুম থেকে ও এসে আবার ডেস্কে বসে পড়ে কারন ও টিফিন আনেনাই। মূলত ও বাসায় আজ রান্নাও করেনাই ভালোলাগছিলো না তাই।

এদিকে সামিয়া নিলয়কে ওয়াশরুমে যেতে দেখে বাইরে যেয়ে বসে একটা ফাকা বেঞ্চে,, ওর ইচ্ছা নিলয় বেরিয়ে এলে এদিকে ইশারা করে আসতে বলবে। কিন্তু নিলয় না আসায় সামিয়া আবার অফিসরুমে ঢুকে দেখে নিলয় ওর ডেস্কে বসে আছে। সামিয়া কাছে এসে বলে টিফিন কই নিল?" 
নিলয় বলে খেতে ইচ্ছা করছেনা তো তাই আনিনি। 
সামিয়া এক মুহুর্ত চুপ করে থেকে বাসা থেকে আনা রুটি আর মুরগির মাংস থেকে, রুটি ছিড়ে মাংস নিয়ে নিলয়ের মুখের সামনে ধরে বলে হা করো তাড়াতাড়ি। নিলয়ের না না বলতে বলতেই মুখে ঠেলে দেয় রুটি মাংস। জোর করে খাইয়ে তার পর পানির বোতল বের করে পানি খাইয়ে হাত ধুয়ে নিয়ে ভেজা হাত দিয়ে নিলয়ের মুখ মুছে দেয় সামিয়া।
ওদিকে রুমে বসে এই ঘটনার সাক্ষি হয়ে যান একমাত্র তৃতীয় ব্যক্তি মোক্তার সাহেব। উনাকে এরা দুজনের কেউ খেয়াল করেনাই। মোক্তার সাহেবের চোখের কোনে কখন জল এসে গেছে তা উনিও জানেন না। এই ৬০ বছরের জীবনে উনি এখনো আবেগ অনুভব করেন একদম বাচ্চাদের মতো। 
★★★★★★★★★★★★★★ ★★★★★★
দিন যায় রাত আসে এভাবেই চলতে থাকে অফিসের কার্যক্রম। এদিকে শেরপুরের এক বিখ্যাত ধনকুবের আলহাজ্ব ইলিয়াস হোসেন তার নেপিয়ার গ্রুপের জন্য কিছু বিজনেস স্পেশালিস্টের পরামর্শ চাইলেন এই অফিসে কারন তার বিজনেস গত বছর থেকে লস প্রজেক্ট হয়ে আছে, অফিস থেকে ইলিয়াস সাহেবের ব্যাবসা ক্ষতিয়ে দেখার জন্য মোক্তার সাহেব নিলয় আর সামিয়াকে নির্বাচন করলেন। তারা উভয়েই তিনদিন ব্যাবসার সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করে আসবে এসে সিদ্ধান্ত জানাবে।
মোক্তার সাহেব অফিস থেকে থাকা খাওয়া আর যাতায়াতের সকল ব্যাবস্থা করে দিলেন যদিও সকল খরচ ইলিয়াস সাহেব দিয়ে দিবেন ওরা গেলেই। 
ওরা ওদিনই ছোট্ট শহর শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হলো ভাড়া করা ট্যাক্সিতে। তবে প্রচুর বৃষ্টি শুরু হলো যাত্রা শুরু করতে করতেই। আর রাস্তা এতোই খারাপ সেই সাথে বৃষ্টি হওয়ায় মারাত্নক জ্যাম। সন্ধা ৭.৩০ এ রওনা হকেও টঙ্গী ছাড়াতেই ১০ টা পার হয়ে গেলো। তার পরেও রাস্তায় জ্যাম গাড়ি থেমে থেমে যাচ্ছে। ওদিকে জানালার কাচের উপর দিয়ে জল নামছে সবেগে। জানালার কাচে মাথা রেখে তাই অনুভব করছে সামিয়া। আর নিলয় বসে বসে দেখছে, খুব ভালো লাগছে তার রাস্তার সোডিয়াম লাইটের আলোয় সামিয়ার মুখ সে ভালোভাবে দেখতে না পারলেও অবয়বটা বুঝতে পারছে। কিছুক্ষন পরে সামিয়া বললো নিল আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, বলেই নিলয়ের পায়ের উপর মাথা রেখে শুয়ে পড়লো সামিয়া। নিলয় চুপ করে দেখলো, আস্তে করে সামিয়াকে ধরে রাখলো যাতে পড়ে না যায়। খুব ভালো লাগছে ওর সামিয়াকে ফিল করতে। মনে হচ্ছে যেনো জড়িয়ে বুকের মাঝে আকড়ে ধরে কিন্তু সাহস হচ্ছেনা আবার সেই সাথে অজানা বাধা অনুভব করছে।

তবে দেখতে তো আর কেউ বাধা দিচ্ছেনা চুল গুলো এলোমেলো হয়ে লেপ্টে আছে নিলয়ের পায়ে। ঘুমের মধ্যেই সামিয়া কাত হয়ে নিলয়ের পিঠের পেছনে হাত দিয়ে আকড়ে ধরলো ঘুরে। নিলয় সামিয়ার চুল লম্বা চুল গুলো যাতে গাড়ির মেঝেতে না চলে যায় তাই গুছিয়ে হাতে ধরে সামিয়ার পিটের উপর দুই হাত দিয়ে ধরে রাখলো যাতে ঝাকিতে ও গড়িয়ে পড়ে না যায়।। সারা রাত এভাবেই কেটে গেলো। রাত তিনটা বেজে গেলো পৌঁছাতে। শেরপুর নিউমার্কেট চত্ত্বরে পুলিশ বক্সের পাশে গাড়ি রেখে ঐ রাতে কেউ নামলোনা। ওখানেই থাকলো। সকাল হতেই ইলিয়াস সাহেবের লোকেরা এসে হোটেল 'আয়সার ইন' এ ওদের জন্য দুটি ভি আইপি AC রুমের চাবি দিয়ে গেলো। নিউমার্কেট থেকে একটু আগেই হোটেলটি। 
ওরা সকালে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হতেই শাহজাহান হোটেলের ভুনা খিচুড়ি চলে এলো। নেপিয়ার গ্রুপের কর্তারা মূলত ওদের বেশ যত্ন আত্তি করছে। শেরপুর শহরে অনেক ঘুরার যায়গা আছে সুযোগ হলে ঘুরাফিরার ইচ্ছা আছে।

প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে যায় আর ওদের অডিট কার্যক্রম চলে দুপুর ৫টা পর্যন্ত। এই অফিস থেকেই দুপুরে নাস্তা দেয় তার পর অফিস থেকে বের হয়ে ওরা হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তার পর সামিয়া বলে নিল চলো একটু ঘুরে দেখি শহরটা। নিলয় বলে চলো, সামিয়া আজ পরেছে একটা লাল ফুলের প্রিন্ট ওয়ালা সাদা শাড়ি আর নিলয় পরেছে জিনস প্যান্ট আর সাদা শার্ট। ওরা আইসার ইন থেকে হাটতে হাটতে নিউমার্কেটের সামনে এসে দুই কাপ চা খেয়ে একটা ইঞ্জিনের রিক্সা ভাড়া করলো প্রতি ঘন্টা ১৫০ টাকা চুক্তিতে, ও শেরপুর শহর ঘুরিয়ে দেখাবে। ছেলেটার বয়স কম নাম জিজ্ঞাসা করতেই বললো ভুলু মিয়া। বেশ হাসি খুশি, ও বললো স্যার, "ম্যাডামকে মানিয়েছে ভালোই আপনার সাথে,"  নিলয় কিছু বলতে গেলো, কিন্তু সামিয়া বললো থাক ও বলছে বলুক। ওরা ঘুরতে ফিরতে ভুলু মিয়ার গল্প শুনছে। ও এক এক যায়গায় রিক্সা থামায় আর বলে এখানে এটা বিখ্যাত এই এর ইতিহাস, দেখলাম ভালোই জানে। রঘুনাথ বাজারে সত্যবতী সিনেমা হলের পাশে মাশরুম এর চপ, চকবাজারের রুপকথা হলের সামনের চা, খোয়াড়পাড়, শ্রিবরদি বাজার রোডের লিখন হলের সামনের মিষ্টি পান। তেরোবাজার মোড় থেকে হামিদ ভাইয়ের লাড্ডু, চারু সুইটস এর সব মালাই চাপ খেয়ে ওরা রাত ১০ টার দিকে হোটেলে ফিরে এলো। 

সামিয়া খুবই ক্লান্ত। ওরা যার যার রুমে ঢুকে গেলো, গোসল করে ফ্রেশ হয়ে সামিয়া বেরিয়ে এসে নিলয়ের দরজায় নক করলো, নিলয় দরজা খুলে দিলে ভেতরে এসে বললো কিছু ভাল্লাগছেনা নতুন যায়গা একা একা। নিলয় বললো তাইলে টিভি দেখো দাড়াও নিচে থেকে কিছু কিনে আনি৷ ও নিচে গিয়ে চিপস কিনে নিয়ে এলো সাথে মিরিন্ডা আর কিছু চকলেট-কিটক্যাট এইসব।

ওরা গল্প করতে লাগলো, নিলয়ের কেমন ঘোর ঘোর লাগছিলো কারন সামিয়ার গোসল করে আসার পর থেকে ওর চুলের শ্যাম্পুর একটা সুবাস পাচ্ছিলো ও। আর সামিয়া ওর গায়ের কাছাকাছি বসায় সেন্টটা আরো ভালোভাবে ফিল করছিলো। একসময় সামিয়া বালিসে হেলান দিয়ে বসলো নিলয়ের দিকে পা দিয়ে। সামিয়া কিছুক্ষণের মাঝেই ঘুমিয়ে পড়লো, নিলয় ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখতে লাগলো গালটা একটু ফাকা হয়ে আছে, চুলগুলো মুখে এসে পড়েছে কেমন যেনো খুব বাচ্চা বাচ্চা লাগছে মেয়েটাকে। নিলয় ওর পায়ের দিকে ছিলো, আর ঘুমের ভেতরে দুই পা প্রসারিত করে নিলয়ের কোলের উপর তুলে দিলো। নিলয় দু হাত দিয়ে পা দুখানি ওর কোলে রেখে নিজে চিত হয়ে শুয়ে পড়লো। দুজনেই ঘুমিয়ে পড়লো গভীর ঘুমে, ঘুমিয়ে নিলয় সপ্ন দেখলো ও আর সামিয়া শুয়ে আছে কোথাও পাশা পাশি, ওদের চারিদিকে স্বর্ণলতার বেয়ে উঠেছে। কিছু জংলী ফুল ফুটেছে ওদের দুজনের উপরে স্বর্ণলতিকার সাথে।

সকাল বেলা সামিয়ার ঘুম থেকে উঠলো আগে, অনেক ক্লান্তি থাকায় কেউ রাতে নড়েনি, সামিয়া দেখলো ওর পায়ের কাছে ঘুমিয়ে আছে নিলয়, নিলয়ের পেটের উপর ওর দুই পা। সামিয়ার মুখে ফুটে উঠলো একটু হাসি, সে হাসি যেনো ভালোলাগার। কেউ সে হাসির সাক্ষি থাকলোনা। ও নিলয় কে জাগিয়ে তুললো, নিলয় উঠেই বললো স্যরি, কোনো সমস্যা হয়নাইতো তোমার। 
সামিয়া বললো সমস্যা তো তোমার হইছে আমার পায়ের দিকে শুইলে কেনো, আর আমাকে তো জাগিয়ে দিতে পারতে তোমার পেটের উপর আমি পা তুলে শুয়ে ছিলাম নিল স্যরি। 
নিলয় বললো আমি কিছু মনে করিনি সামিয়া, বরং তোমাকে দেখতে খুব ভালো লাগছিলো। 
সামিয়া ফিক করে হেসে দিলো, বললো কি যে বলো, ভালো লাগবে কেনো, আমি দেখতে মোটেই সুন্দর না। 
নিলয় বললো, না আমার চোখে খুব ভালো লাগছিলো আর  মনে হচ্ছিলো....... 
সামিয়া বললো কি মনে হচ্ছিলো? 
নিলয় বললো, তুমি রাগ করবে বললে, থাক স্যরি। 
সামিয়া বললো "না হবেনা, তোমাকে বলতেই হবে, আমার দিব্বি।"
নিলয় মাথা নিচু করে লজ্জাবনত চোখে বললো, আমার খুব মনে হচ্ছিলো যে তোমার দুই গালে দুটা চুমু দেই। 
সামিয়া অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো, আর মনে মনে বললো দিতে ইচ্ছা হচ্ছিলো দিতে, আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম কিছুই তো বলতাম না। কিন্তু লেখক এটা বুঝে গেলেন যে সামিয়া যদি এদিকে মুখ ফিরিয়ে রাখতো তবে নিলয় সামিয়ার ঠোটের কোনে হাসির ঝিলিক দেখতে পেতো।।

যাই হোক, একে একে তিনদিন কাজ ও শেষ হলো আর সেই সাথে বিদায়ের পালা শেরপুর থেকে।  নেপিয়ার গ্রুপের সকল হিসাব পাতি দেখে ওরা বুঝতে পারলো যে কোম্পানির ম্যানেজারের দুই নম্বর কার্যক্রম ই কোম্পানির লসের জন্য দায়ী। নেপিয়ার কোম্পানির চেয়ারম্যান ইলিয়াস সাহেবের সাথে গোপনে বৈঠক করে ওরা ওদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলো। ইলিয়াস সাহেব খুবই কঠোর মানুষ। উনি খুবই খুশি হলেন কাজের প্রতি। ওদের চুক্তির টাকা বুঝিয়ে দেয়ার পরে আরো কিছু সম্মানি দিলেন হিসেবের বাইরে। 

ওরা এবার বাসে টিকিট কাটলো শেরপুর নিউমার্কেট থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ৬ টায় বাস, AC -Delux. এর। সেদিন ওদের মাথায় চাপ কম,, সন্ধায় শেরপুরের বিখ্যাত অনুরাধার দই খেয়ে ওরা ফিরে এলো মাইসাহেবা মসজিদের সামনে। এখান থেকে ঘুরে ফিরে ওরা কিছু শপিং করলো। শপিং বলতে গেলে একে অপরকে করে দেওয়াই হলো। নিলয় শেরপুর থেকে কিছু গারো উপজাতিদের তৈরি গিফট আইটেম শো পিস কিনে দিলো সামিয়াকে, সেই সাথে একটা নীল রং এর শাড়ি। আর সামিয়া কিনলো একটা সাদা পাঞ্জাবী আর একটা বাঁশের বাঁশি। কিনে নিলয় কে দিলো। কেনা কাটা শেষ হলে ওরা একটা রিকশায় উঠে ফিরে এলো হোটেলে, রিক্সায় উঠে নিলয়ের হাতের আংগুলের ভেতরে আংগুল ঢুকিয়ে বসে থাকলো সামিয়া। আকাশে আজ মেঘ নেই, চাদ উঠেছে চকচকে সামিয়া উপর দিকে তাকিয়ে আছে। নিলয় বললো সামিয়া পড়ে যাবা তো। সামিয়া উদাস সুরে বললো, কেনো নিল তুমি আমাকে ধরে রাখতে পারবানা। নিলয় কিছু না বলে দুই হাত দিয়ে সামিয়ার দুই হাত মুঠোর মধ্যে শক্ত করে ধরে কোলে টেনে নিলো, সামিয়া কিছুই বললোনা।

পরের দিন সকাল ৬ টায় ওরা বাসে উঠলো, সাড়ে ছয়টায় বাস ছাড়লো। ১২ টার মধ্যে ঢাকা পৌছে গেলো বাস। ওরা ওদের অফিসে যেয়ে টাকা পয়সা বুঝিয়ে দিলো আর রিপোর্ট দিলো কাজের। সোবহান সাহেব খুব খুশি হয়ে দুজনকে বোনাস দিলেন। আর বললেন আজ আপনাদের ছুটি, ট্যুর করে এসেছেন বাসায় যেয়ে বিশ্রাম নেন। 
ওরা অফিস থেকে বের হয়ে বাসে উঠে, কুড়িল পৌঁছে সামিয়া নেমে যায় আর নিলয় নদ্দায় নামে। কিন্তু আজ আর বাসায় যেতে মন চাইছেনা নিলয়ের। কি মনে করে সামিয়াকে ফোন দেয় নিলয়,,, "হেলো সামিয়া কি করো তুমি"
সামিয়া বলে, "এইতো নিল বাসায় আসলাম, কি হইছে তোমার।"
নিলয় বলে, " তুমি আসতে পারবা আজকেই আমার বাসায় একটু।"
সামিয়া বলে, "হ্যা পারবো, তাহলে গোসল করে আসছি।"
নিলয় বলে, "আচ্ছা আসো।"
১ ঘন্টা পরে সামিয়া এসে দেখে নিলয় বাসায় না উঠে নিচে দাড়িয়ে আছে, সামিয়া আশ্চর্য হয়ে বলে "সেকি তুমি ফ্রেশ না হয়ে দাড়িয়ে আছো কেনো?"
নিলয় বলে কি করবো বলো, ভালোলাগছেনা, জানিনা কেমন যেনো লাগছে।
সামিয়া বলে, পাগল হয়ে যাচ্ছো দিন দিন, চলো উপরে যাই।
নিলয় রুমে এসে গোসল করতে বাথরুমে ঢুকলো, ওদিকে সামিয়া চুলায় রান্না বসিয়ে দিলো। নিলয় ফ্রেশ হয়ে এসে বসলো, সামিয়া একে একে ফ্রিজে রাখা মুরগির মাংস রান্না করলো আর ভাত রান্না করলো। তার পর দুজনেই খেতে বসলো। খাওয়া দাওয়া শেষ করে সামিয়া বললো আমাকে পৌঁছে দিয়ে আসো এবার রাত হয়ে গেছে। নিলয় বললো চলো। 
সামিয়ার ফ্লাটে এসে লিফট থেকে নেমে সামিয়ার রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসে নিলয় সামিয়াকে বলল এবার তাহলে যাই। সামিয়া বললো আচ্ছা যাও। আজ তো বৃহস্পতিবার মানে কাল পরশু অফিস এমনিতেই ছুটি। "ওকে" বললো নিলয় কিন্তু যাচ্ছেনা, সামিয়া বললো কি হলো যাবেনা ফিরে না-কি। নিলয় বললো হ্যা যাবো, কিন্তু না' নিলয় যাচ্ছেনা সামিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। সামিয়া কি মনে করে কাছে আসলো নিলয়ের হাত ধরে ভেতরে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকায় দিয়ে নিলয় কে দরজার সাথে সেটে ধরলো, তার পর মুখের কাছে মুখ নিয়ে ফিস ফিস করে বললো সেদিন তোমার কি ইচ্ছা হচ্ছিলো নিল। নিল কিছুই বলছেনা। সামিয়া বুকের সাথে আঁকড়ে ধরলো নিলয়কে, আর নিলয়ের ঠোটে নিজের দুই ঠোট লেপ্টে ধরলো। অনেক্ষণ হয়ে গেলো নিলয়ও সামিয়ার পিঠে হাত রেখেছে বড্ড ভরশার ছোঁয়া সে হাতে। সামিয়ার ঠোট থেকে নিজের ঠোট ছাড়িয়ে সামিয়ার কপালে, দুই চোখে আর মাথায় চুমু খেলো নিলয়। তার পরে নিলয় সামিয়াকে বললো "আমরা কি এক বাসায় থাকতে পারি, আমার না খুব ইচ্ছা তোমার হাতে হাত রেখে চাঁদ দেখবো, দেখবো ঝুম বৃষ্টি, তোমাকে কোলে তুলে তোমার ঠোটে চুমু খাবো। আর তুমিও আমার গলা জড়িয়ে ধরে থাকবা। দুজনে হাতে হাত রেখে ঘুরবো বোটানিক্যাল এ। 
সামিয়া বললো হ্যা নিল আমরা পারি, আমি ও তোমার চোখে চোখ রেখে দেখতে চাই চাঁদ, তোমার বুকে মাথা রেখে কাটাতে চাই প্রতিটি মুহুর্ত। আমি তোমার হাত ধরে হারিয়ে যেতে চাই দুর অজানায়। প্রতিদিন খাইয়ে দিতে চাই তোমাকে নিল। বলে আবারো নিলয়ের মুখে চুমু খেলো সামিয়া। 

পরিসমাপ্তিঃ

মোক্তার সাহেব, সোবহান সাহেব আর সকল কলিগদের দাওয়াত করা করলো নিলয় তার এক বন্ধুর কমিউনিটি সেন্টার আব্দুল্লাহপুরে। পরদিন জুম্মা বাদ সবাই একে একে এলো, সোবহান সাহেব স্বপরিবারে এসেছেন, মোক্তার সাহেব এসেছেন আরো সবাই এসেছেন নানা ধরনের গিফট নিয়ে। অফিসের মেয়ে কলিগেরা গেলো সামিয়াকে নিয়ে আসতে। সামিয়ার সেই চাচা ও এসেছেন। কনে সামিয়াও চলে এসেছে। এদিকে নিলয়ের দেখা নেই, ২ টা পেরিয়ে ৩টা ৪ টা বেজে গেলো নিলয়ের দেখা নেই। ৪.১৫ নাগাদ মোক্তার সাহেবের ফোনে একটা অচেনা নাম্বারের কল আসলো উনি রিসিভ করতেই বললো আমি ভাটারা থানা থেকে বলছি। নিলয় নামে কেউ কি আপনার অফিসের এমপ্লয়ি আপনার কার্ড পাওয়া গেছে উনার মানিব্যাগ থেকে। মোক্তার সাহেব ভয়ে ভয়ে বললেন হ্যা কি হয়েছে ওর। ওপাশ থেকে বললেন নিলয় সাহেব সম্ভবত কোনো অনুষ্টানে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন সাথে ছিলেন উনার মামা, এয়ারপোর্ট রোডে পাশ থেকে লেন চেঞ্জ করে এক ট্রাক দুজনকে উনাদের গাড়ি সুদ্ধু চাপা দিয়েছে সাথে ড্রাইভার ও নিহত হয়েছে। 

মোক্তার সাহেব কিছু বললেন না, ফোন সোবহান সাহেবকে দিয়ে দিলেন। সোবহান সাহেব ক্ষমতাশালী মানুষ উনি নিজের পরিচয় দিয়ে পুলিশকে অনুরোধ করলেন এম্বুল্যান্স এ করে পাঠায় দেয়ার জন্য এই কমিউনিটি সেন্টারে। আর কাউকে কিছুই এ দুজন বললেন না, সামিয়া বার বার জিজ্ঞাসা করতে লাগলো নিলয়ের নাম্বারে ফোন যাচ্ছেনা কেনো। কখন আসবে ও, আপনারা কিছু বলছেন না কেনো। মোক্তার সাহেব বললেন মামুনি একটু অপেক্ষা করো আসছে নিলয়। কিছুক্ষণ পরে এম্বুল্যান্স এলো বের করা হলো একটি কফিন সবাই নিচে নেমে গেলো। কফিনের মুখ খুলতেই চারিদিকে একটা শোরগোল পড়ে গেলো, এম্বুল্যান্স এর ড্রাইভার বললো সমগ্র শরীর নষ্ট হয়ে গেছে শুধু মুখটাই ভালো আছে আর কিছুই দেখার মতো নেই। সামিয়া এক বার তাকিয়েই কফিনের উপর পড়ে গেলো মেয়ে কলিগেরা টেনে তুললো মুখে চোখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হলো অনেক, কিন্তু না জ্ঞান ফিরলোনা।

এম্বুল্যান্স এর সাথে আসা ডাক্তার বললেন, ওর জ্ঞান আর ফিরবেনা। সকলের অশ্রুজল মিশে গেলো, তিনটি লাশ - নিলয়ের মামা, নিলয় আর তার পাশে সামিয়ার লাশ পাশাপাশি রাখা হয়েছে, দুটি এসেছিলো আর একটি বেড়ে তিনটি হয়েছে। নিলয় দের নিহত ড্রাইভারকে আগেই ড্রাইভারের গ্রামের বাড়ি পাঠায় দেয়া হয়েছে।

সোবহান সাহেবের একক তত্ত্বাবধানে তিনজনের লাশ নিয়ে যাওয়া হলো নিলয়ের গ্রামে, নিলয়ের বাবা মা সহ অনেক আত্নীয় স্বজনের লাশ এখানে দাফন করা হয়েছে। নিলয়ের পাশে সামিয়ার লাশ দাফন করা হলো। মোক্তার সাহেব, সোবহান সাহেব সহ সকল কলিগ এবং গ্রাম বাসির চোখের জলে সিক্ত হলো নিলয়ের আর সামিয়ার লাশ। গ্রামের গৃহবধুরাও অশ্রু বিসর্জন করলেন, দুটি হৃদয় সামাজিক বন্ধন প্রতিষ্টিত না হলেও যে বন্ধন প্রতিষ্টিত হয়েছিলো তা ছিন্ন করতে পারিনি তাই নিলয়ের লাশ দেখেই সামিয়ার হার্ট ফেইল হয়ে গেছিলো। কবর দেয়া শেষ সবাই হাত তুলে দোয়া করলো, সোবহান সাহেব ওদের দুজনের কবর ঘিরে দিলেন নিজ খরচে। কিছুদিন পরে দুই কবর দেয়াল পেচিয়ে উঠলো স্বর্ণলতা। আরো ফুটলো নানা ধরনের জংলি ফুল। 
সবাই ভুলে গেলো একে একে,,,সামিয়া-নিলয়ের অফিসের ডেস্কে যারাই বসেছে তারাই শুনেছে তাদের গল্প। তারাও ভাবে তাদের কথা, বিয়ের কনে আর বর দুই কপোত কপোতির বিয়ের সাজে কফিন বন্ধি হওয়ার গল্প। বিবাহবার্ষিকী হয়েছে তাদের মৃত্যুবার্ষিকী। 

যারা কবর খুড়তে আসে তারা ঐ কবর দুটির দিকে তাকিয়ে অজান্তে ঝরায় অশ্রু। আরো দুজন আছেন মোক্তার সাহেব আর সোবহান সাহেব, প্রতি বছর আসেন এই কবরস্থানে সেই বিবাহবার্ষিকীতে, সাথে আসে আরো কিছু মানুষ যারা নিলয় আর সামিয়ার সাথে চাকরি করতো। যারা নতুন এমপ্লয়ি তারাও কেউ কেউ আসে গল্প শুনে দুই অতৃপ্ত মানব মানবীর সমাধি দেখতে। নিলয় আর সামিয়ার ভালোবাসার অশ্রু জল সিক্ত করে দিলো লেখককেও, লেখকের একান্ত কামনা আর কোনো সামিয়া-নিলের যেনো এমন ভাগ্য না হয়। নিল আর সামিয়ার বিবাহবার্ষিকী এভাবেই ফিরে ফিরে আসে আর পালিত হতে থাকে অশ্রুজলে।

★Writter: Md. Abidur Rahman, MBA (Regular programme)  From. Institute of Business Administration, Dhaka University

Wednesday, April 22, 2020

ভালোবাসার ডাকপিয়ন আর নীল শাড়ি পরা পরি

সেই দিন গুলোর মধ্যে একটি যেদিন BRTC দোতলা বাসে উঠে পছন্দসই জানালার পাশে বসার পরে নামে ঝুম বৃষ্টি। জানালার কাচ ইঞ্চি খানেক ফাকা করে ওখানে মাথা বাধিয়ে বৃষ্টির ছাট লাগাতে লাগাতে ভার্সিটির দিকে যাওয়া। সেদিন মনেই হয় যে যদি শহরটা জ্যাম বেধে স্তদ্ধ হয়ে যেতো অথবা সারাদিন বাস চলতে থাকতো। আর তার সাথে চলতো বৃষ্টি অঝোর ধারায়। 
যাই হোক এমন রোমান্টিক আবহাওয়ার মাঝেই, বেরসিক ভাবে বেজে উঠলো ফোনের ভাইব্রেটর। ফোন তুলেই দেখি আমার কাজিন নীলিমা। ও চাকরি করে হোটেল রাজমনি ঈসা খাঁ'এ রিসিপশনিষ্ট হিসেবে। আমি ওকে খুব পছন্দ ও করি, আমার থেকে বয়সে ১ বছরের বড় তার পরেও সম্পর্ক বন্ধুর মতো। 
যাই হোক ফোন ধরেই বললাম আপু তুমি, কি মনে করে ফোন দিলা, কেমন আছো। ও খুব উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললো শিমু জানিস আমি একটা ছেলেকে বিয়ে করতে যাচ্ছি তুই আসতে পারবি বিকালে। আমার পুরো নাম শিমুল, আপু আমাকে আদর করে শিমু বলে। আমি কখনোই এত উচ্ছাস ওর কন্ঠে শুনিনি আগে। আমি, বললাম তুমি বলেছো যখন নিশ্চই আসবো। ও বললো আচ্ছা তুই বিকালে পেট্রোবাংলা অফিসের সামনে চলে আসিস। আমি ওখানেই থাকবো। আমি বুঝলাম যে নিশ্চই সাক্ষী দিতে হবে।
ফোন রেখে দিতেই,, আবার কল এলো। দেখি খালা ফোন দিয়েছেন, উনি হলেন নীলিমার মা। 
ফোন রিসিভ করে বললাম আন্টি আসসালামু আলাইকুম। উনি উত্তর দিয়েই বললেন, "খবর শুনেছিস, নীলিমা বিয়ে করতে যাচ্ছে একটা গাধাকে। গাধাটার নাকি যমুনা ফিউচার পার্কে একটা শো রুম আছে। জামা কাপড়ের। আর কোনো কিছুই নেই। চাকরি বাকরি করেনা, ওগুলোর ইচ্ছাও নেই, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি থেকে রসায়নে মাস্টার্স কমপ্লিট, অথচ কিছুই করেনা, এই লিখাপড়া দিয়ে কি হবে যদি চাকরিই না করে। আর ওর বাবাটাও একটা ভবঘুরে। তুই ই বল এমন ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়া যায়, বেকার চালচুল নেই৷ অকম্মার ঢেকি"
আমি বললাম "জি খালা, আমি তো শুনেছি, আমার এতে কিছুই করার নেই।"
উনি বললেন, "তোকে কিছু করতেই হবে, ওই অকম্মা ছেলেটাকে একটা উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে, ওর ঠিকানা বের কর, আর আমার মেয়েটার সামনে তো কিছুই করা যাবেনা, আক্কাসকে নিয়ে যা, আর নীলিমার সাথে কথা বল, ছেলেটার ঠিকানা নীলিমার কাছ থেকে তুই ভুল ভাল বলে বের করবি, আক্কাসকে দিয়ে ওকে কি ভাবে ধরে জেলের ভাত খাওয়াতে হয় আমি জানি।"
আমি বুঝলাম যে আজ আর ভার্সিটি যাওয়া হবেনা। বাস কেবল নদ্দা থেকে উত্তর বাড্ডা পর্যন্ত গিয়েছিলো। ওখানেই নেমে গেলাম। নেমে খালার বাসা মগবাজারে যেয়ে আক্কাসকে সাথে নিলাম। আমার খালু বেচে নেই। খালু ইমতিয়াজ উদ্দিন সাহেব ছিলেন বড় ব্যাবসায়ী, ঢাকার সবাই তাকে প্রায় চিনে। খালার বাসার সব কাজ কর্ম আর খালার সাথে খালুর সেই সব ব্যাবসা এই আক্কাস দেখাশোনা করে। তবে আক্কাসকে শুধুমাত্র কাজের লোক বলা ভুল। ওর বেতন ১০ হাজার টাকা। ও মূলত সকল কাজের কাজী, বন্দুক, গাড়ি সব চালাতে পারে। ঢাকা শহরে সকল যায়গায় ওর হাত আছে। খালাকে ও বড় বোন বলে মেনে নিয়েছে।
যাই হোক আমি আক্কাসকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। নীলিমাকে ফোন দিয়ে বললাম আপু তুই তো আমাকে বিশ্বাস করিস তাইনা। 
ও বললো, "পাগল নাকি তুই, নিশ্চই কাকে বিয়ে করবো ওকে দেখার জন্য আমার আম্মু তোকে নিয়োগ করেছে?"
আমি বললাম, "হ্যা, তাই, এখন বল আমি আগে থেকেই ব্যবস্থা করি"
নীলিমা ঠিকানা বললো আমাকে। আমি টুকে নিলাম মোবাইল নোটে।
আক্কাস বললো "মামা চলেন যাই। কোথায় আছে হতচ্ছাড়া টা। এই দেখেন পকেটে কি নিয়ে আসছি, এটা ওর পকেটে সিস্টেম করে ঢুকিয়ে দিবো। দিয়ে থানায় কল দিয়ে পুলিশে দিবো।"
আমি জিনিসটা দেখে ওকে ফেরত দিলাম, বললাম এটা কি, ও বললো, আরে মামা এখনো চিনেন না, এ হলো ইয়াবা।
আমি বললাম আচ্ছা শোনো, তুমি মাঝে মাঝে রুপনগরে যাও, কেনো। 
ও একটু হতভম্ব হয়ে বললো, "আপনি কেমনে যানেন। মামা আপাকে বলিয়েন না, উনি রাগ করবেন, প্লিজ।" একেবারে অনুনয়ে গলে পড়লো।
আমি সবজান্তার হাসি হাসলাম। আমি মুলতঃ তিন্নি নামক একটা মেয়েকে পড়াতে যাই, রুপনগর বাজারের পাশে। তিন্নির বাবা এই এলাকার এক নম্বর মস্তান, যত প্রকার চাদাবাজি হোক সবই তিনি করেন। তবে আমার এখানে প্রচুর সম্মান, উনি তার মেয়ের টিচার হিসেবে আমাকে দেখলে যেখানেই হোক না কেনো উঠে দাড়িয়ে সালাম দেন। একদিন তিন্নি আমাকে বললো, "ভাইয়া দেখেন, ঐ লোকটি আমার বড় আপু তানিশার সাথে প্রায়দিন গল্প করে, আব্বুকে বলেছি, আব্বু ঐ লোকটাকে এমন শিক্ষা দেবে যে কয়েক জনম মনে থাকবে।"
আমি দেখি সেই লোকটি আক্কাস। 
আমি আক্কাসকে বললাম, ওর নাম তো তানিশা তাইনা, আক্কাস আমার হাত ধরে বললো মামা, প্লিজ পায়ে পড়ি, এ কথা আপনার খালা যেনো না জানে। 
আমি বললাম, ঐ মেয়েকি তোমাকে পছন্দ করে, তোমাদের সমস্যা কোথায়?"
আক্কাস বললো ওর বাবাই তো সমস্যা, উনি আমাকে দেখতেই পারেন না। অনেক বার ভেবেছি তোমার খালা তো আমার বড় বোনই হয় সম্পর্কে, উনার অনেক নাম ডাক আছে, আপার ছোট ভাই এ কথা বললে হয়তো রাজি হবে তানিশার বাবা। আমি আগের সব রংবাজি ছেড়ে দিয়েছি, আজকেই আপনার সাথে বের হলাম আপার কথায়। 

আমি বললাম, আচ্ছা চলো তাইলে একটা মিশনে যাই। খালার কাছে ফোন দিয়ে বললাম খালা কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা লাগবে লোক ম্যানেজ করতে। 
খালা বললো আচ্ছা, আক্কাসকে তুলে নিতে বল কার্ড দিয়ে, ওর কাছে কার্ড রাখা আছে আমার।
আমি আক্কাসকে বললাম আক্কাস মামা, ৬০০০০ টাকা তুলে নাও তো দেখি। 
আক্কাস আর কিছুই বলছেনা, তুলে নিয়ে আমার হাতে টাকা টা দিলো। আমি একটা উবার ভাড়া করে যমুনা ফিউচার পার্কে এলাম, নীলিমার বয়ফ্রেন্ড এর শো-রুমে, ওকে পরিচয় দিলাম এভাবে যে আমরা ওকে দেখতে আসছি, আমি নীলিমার সবচেয়ে কাছের ছোটো ভাই। 
দেখলাম একটা নিখাদ ভদ্র ছেলে। নাম সাজিদ, ওর বাবা মি. আশফাক আমিন, তিনি কোনো কাজ করেন না, শুধুমাত্র দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ান, ভদ্রলোকের প্রচুর টাকা। আমি আগেই জানতাম  সাজিদও শিক্ষিত, কিন্তু ব্যাবসা করছে কেনো জিজ্ঞাসা করতেই বললো, ভাইয়া টাকার তো সমস্যা নেই।৷ আমার ব্যবসা ভালো লাগে কেনো চাকরি করবো। আমি দেখলাম আসলেই অনেক বড় শো-রুম অন্তত কয়েক কোটি টাকার মালামাল, কর্মচারী ২০/২২ জন। আক্কাস শুধু খুতখুত করছে, কখন কাজ শেষ করবে, আমি ওকে ইশারায় মানা করলাম।
আমি বিভিন্ন ভাবে কথা বলে এটা শিউর হলাম যে সে নীলিমাকে আসলেই অনেক পছন্দ করে।
 তার পর আমি খুব দামী একটা শাড়ি নিলাম ১৭ হাজার টাকা দিয়ে, আক্কাসের জন্য এক টা দামি প্যান্ট আর শার্ট কিনলাম৷ তার পরে বেরিয়ে এলাম।
আক্কাস বললো মামা কাজ তো হলোনা।
আমি বললাম দেখো কি হয়, বলে বেরিয়ে এসে, একটা উবার নিয়ে রুপনগরে এলাম তিন্নি দের বাড়ি। আক্কাসের চোখ বড় বড় হয়ে গেছে, তানিশা আমাদের দেখে আর সামনে আসছেনা। আমি তিন্নিকে বললাম তোমার বাবাকে ফোন দাও। 
ওর বাবা আসলো উনি এসে মাথা নিচু করে বসে থাকা আক্কাসকে দেখে রেগে গেলেন, বললেন এ এখানে কেনো। 
আমি বললাম, আংকেল ওর কথা বাদ দিন, পরে বলছি। আগে আপনি বলেন, ইমতিয়াজ সাহেব কে চিনতেন, রেবা গ্রুপের মালিক। 
তানিশার বাবা বললো, জি স্যার, উনাকে কে না চিনে। এতো বড় বিখ্যাত একটা মানুষ,  আহা হঠাৎ করেই মারা গিয়েছিলেন।
আমি বললাম, উনার এক মাত্র শ্যালক এর সাথে আপনার মেয়ে তানিশার বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে এসেছি। 
উনি বললেন সে তো খুব খুশির খবর, তা পাত্রের ছবি দেখান।
আমি বললাম,, এই হলো আমাদের পাত্র, আক্কাসকে দেখিয়ে বললাম। 
উনি চুপ চাপ কিছু বললেন না, তার পর উঠে দাড়ালেন, দেখি আক্কাস একদম ঘেমে লাল হয়ে গেছে। উনি উঠে দাড়িয়ে বললেন তানিশা এদিকে আয়তো।
তানিশা কাপতে কাপতে এসে বললো, বাবা বলো। ওর মাও এসে দাড়ালো পাশে।
আক্কাস কে দেখিয়ে বললেন, একে পছন্দ হয় তোর। 
তানিশা কিছু না বলে ওর মাকে জড়িয়ে ধরলো। 
আংকেল বললেন, মা, তানিশা তুই আমাকে কিছু না বলে লুকিয়ে ওর সাথে দেখা করিস, আমি এতে খুব কষ্ট পেয়েছি৷ তবে তোর স্যার প্রস্তাব নিয়ে এসেছেন আমি সানন্দে গ্রহণ করলাম। 
আক্কাস কে বললাম, মামা তোমার কোনো আপত্তি আছে। 
আক্কাস কিছুই বলছেনা, ও হতভম্ব হয়ে গেছে।
আমি তানিশার জন্য আনা শাড়িটা তানিশার হাতে দিলাম দিয়ে বললাম এটা তোমার জন্য বিয়ের আগেই আমার পক্ষ থেকে উপহার। ওর চোখ দিয়েও পানি ঝরছে। আমি ওকে বললাম, আমাদের সাথে একটু যেতে পারবা। ও বললো হ্যা পারবো। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখি তানিশার পাশা পাশি তিন্নিও রেডি হয়ে এসে আমার হাত ধরে বললো ভাইয়া আমাকেও নিয়ে চলেন না সাথে। আমি হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম আচ্ছা চলো।

আমি আর সময় নিলাম না। বেরিয়ে এলাম, আংকেল বললো, স্যার যান। কালকেই আমরা যাবো আপনার খালার সাথে দেখা করতে।
আমি বাইরে এসে, তিনজনকে নিয়ে একটা উবারে উঠে কাওরান বাজার চলে এলাম, আসতে আসতে ৩ টা বেজে গেলো। ইতিমধ্যে নীলিমা একবার ফোন দিয়েছিলো আমার কাছে, আমি বললাম সব ঠিক আছে আসো৷ 
ওরা ৪ টার দিকে পেট্রোবাংলা অফিসের সামনে এলো। আমি, আক্কাস আর তানিশা ইতিমধ্যে চা নাস্তা করেছি। আক্কাস আমার হাত ধরে বলেছিলো মামা আপনি আমাদের জন্য যা করলেন, আসেন আমরা অন্তত খাওয়া দাওয়া করি।
আমি বললাম না, খাওয়া দাওয়া করবোনা এখন একবারে বিকালে করবো, একটা অনুষ্ঠান আছে তার পরে। আর তোমার জন্য যা করলাম তা এমনি এমনি করিনি। দেখি তুমি এর জন্য আমাকে কি দিতে পারো। 
নীলিমা আর সাজিদ আমাদের কে নিয়ে কাছাকাছি এক কাজি অফিসে নিয়ে গেলো। সাজিদ বললো ওর কিছু বন্ধু আছে যারা সাক্ষী দিবে, আর নীলিমা বললো শিমু তুই সাক্ষী দিবিনা, আমি বললাম নিশ্চই দিবো। তানিশা বললো ভাইয়া, আমি আর তিন্নি ও সাক্ষী হবো। তবে আমি একা একজন ছেলে, তানিশা আর তিন্নি দুজন যেহেতু মেয়ে তাই আরো একজন ছেলে লাগবে। আমি বললাম তাহলে সাজিদ ভাইয়ের বন্ধুরা আসুক। দেরি হয় হোক।
পাশের থেকে আক্কাস আমার হাত ধরে বললো, মামা আমি সাক্ষী দিবো৷ 
আমি বললাম সেকি আক্কাস তোমার না অন্য কাজ ছিলো। আক্কাস বললো,, থাক সে কাজ, আমি ওটা ফেলে দেবো বাইরে। 
বিয়ে হয়ে গেলো নীলিমা আর সাজিদের, সন্ধা হয়ে গেলো, সাজিদ আর নীলিমা প্রচুর টাকা নিয়ে এসেছিলো খরচ বাবদ। দেনমোহর ধরা হয়েছিলো মাত্র ২ লাখ টাকা। সাজিদ ১লাখ ৫০ হাজার টাকা দিলো নগদ, আমি নীলিমাকে বললাম আপু তুই কত এনেছিস বিয়ের খরচ বাবদ ও বললো ৬০ হাজার। 
আমি বললাম দাও আমাকে। 
ও কোনো কথা না বলে দিয়ে দিলো। আমি সাজিদের টাকার সাথে এই টাকার ৫০ হাজার যোগ করে ২ লাখ বানিয়ে নীলিমাকে দিয়ে বললাম এটা তোমার দেনমোহর পরিশোধ। 
আর বাকি টাকা আর সকালে তুলা খালার টাকা থেকে বিয়ের খরচ মিটিয়ে বাইরে বেরিয়ে সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম। আমি সাজিদকে বললাম, ভাইয়া তোমার বাবা কোথায়, তিনি কি রাজি হতেন না?
সাজিদ বললো উনি রাজি, এইযে উনি অলরেডি দুটা ভিসা পাঠিয়ে দিয়েছেন আমেরিকা যাওয়ার জন্য। নীলিমাকে নিয়ে। ওখানেই যাবো প্রথম হানিমুনে। 
আমি বললাম তাহলে, আজ তোমরা যার যার বাসায় যাও, নীলিমা আপু তোমার তো আজকে সাজিদ ভাইয়ের বাসা, হাসতে হাসতে বললাম। আর আক্কাস মামা তুমি তানিশা আর তিন্নিকে পৌছে দিয়ে আসো। আমি খালার সাথে দেখা করে আসি। কিছু তো বুঝাতে হবে। তিন্নি যাওয়ার সময় আবার আমার পাশে এসে আমার হাত ধরে বললো ভাইয়া, সাবধানে থাকবেন। আমি হাত ছাড়িয়ে বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে।
আমি খালার বাসায় আসলেই খালা বললো আক্কাস কই, ওকে থানায় ভরা হয়েছে তো। 
আমি হতাশ সুরে বললাম, জি খালা কাজ তো হয়ে গেছে কিন্তু ওরা তো আরো ১ সপ্তাহ আগেই বিয়ে করেছে। তুমি ভুল ইনফরমেশন দিয়েছো।
আমার কথা শুনেই খালা হাত পা ছড়িয়ে কান্না শুরু করলেন, "এই জন্যই মেয়েটা আমার পাল্টে গেছে, আমার কি হবে, শেষ পর্যন্ত ঐ হতচ্ছাড়াটা আমার জামাই। আমি কখনোই মেনে নিবো না। "
হাফ ঘন্টা পরে আমি চলে যাচ্ছিলাম, খালা বললেন শিমুল, এক কাজ কর, আমি ওকে মেনে তো নিবোনা, কিন্তু বিয়ে যখন হয়ে গেছে, ওই ছেলেটাকে থানা থেকে বের করে আন, আমার মেয়েটা একা একা রয়েছে। আর হ্যা একটা কথা,  আমার বাড়ি, নীলিমা আর ওই বদমাশটার জন্য অফ এটাও বলে দিস। ছাড়ানোর জন্য যা লাগে আক্কাসকে তুলে নিতে বলিস।

আমি বললাম খালা, এই মেয়েটি কেমন লাগে তোমার কাছে (তানিশার ছবি দেখিয়ে বললাম), খালা বললেন তোর জন্য। আমি বললাম না খালা আক্কাস মামুর জন্য৷ বেচারি তো তোমার সেবাই করে সারাদিন। খালা ভালো করে দেখে বললেন এমন সুন্দর একটা মেয়ে আক্কাসকে বিয়ে করবে, ও তো হিসেবে আমাদের কাজ কর্ম দেখা শোনা করে।
আমি বললাম তুমি আক্কাসকে যে ভাই বলো, এটা হলেই তো হয়ে যায়৷ তোমার কথায় রাজি সবাই হবে। খালুর নাম ডাক অনেক ছিলো, তোমারও কম নয়। খালা বললেন এমন সুন্দর মেয়েটা আসতে চাইলে, আক্কাসকে আমি আমার কাজিন হিসেবেই ভাই বানিয়ে দিবো, আর আমি সত্যিই তো আক্কাসকে আমার ভাইয়ের মতোই জানি। আমার মেয়ে তো চলেই গেলো, এই মেয়েটাকে বাড়ি রাখবো। 
আমি খালাকে বললাম, ঠিক আছে, খালা তাহলে কালকে ওদের আসার ব্যবস্থা করতেছি। 
আমি আক্কাস, আর তানিশাকে ফোন দিলাম। ওদেরকে বুঝায়ে বললাম যে কাল তোমরা এসে যেনো নীলিমার বিয়ের খবর কাউকে দিয়োনা, তাইলে খালা খুব রাগ করবে, আর ষড়যন্ত্রকারী ভাবতেও পারে রাগের বশত। ওরা বললো শুধু আমরাই জানি। তানিশা বললো তিন্নিকেও নিষেধ করে দিচ্ছি।
পরদিন তানিশারাও এলো, সাথে ওর বাবা, মা, তিন্নি। খালা একদম বড় বোনের মতো আক্কাসের ব্যাপারে দায়িত্ব নিয়ে কথা পাকাপাকি করতে লাগলেন।
আমার কিছু ভালো লাগছিলো না। আমি, একটা রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পরে দেখি তিন্নি আমার রুমের দরজায় এসে বলছে ভাইয়া আসবো। 
হ্যা আসো৷ দেখলাম নীল শাড়ি পরে আসায় ওকে খুব সুন্দর লাগছে। এসে বললো, ভাইয়া কেমন লাগছে আমাকে?'
আমি বললাম বিউটিফুল মেয়ে। 
ও বললো, আপনি একবার বলেছিলেন শাড়ি পরা মেয়ে আমার ভালো লাগে।
আমি বললাম, ও আচ্ছা তাই বুঝি৷ তুমি কি কিছু বলবা এখন?
তিন্নি বললো না ভাইয়া, এমনিতেই এলাম।
আমি বললাম এক কাজ করো খুব ঘুম আসছে আমার, পরে কথা বলবো। 
বলে পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণের মাঝে ঘুমিয়েও পড়লাম, কিন্তু যতক্ষণ জেগে ছিলাম, ওর যাওয়ার আভাস আমি পাইনি।
কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম বুঝিনি, তবে ঘুম ভাংলো তিন্নির ডাকে, ও আমার হাতে ধাক্কা দিচ্ছিলো আর বলছিলো, ভাইয়া ওঠেন, আপনার খালা ডাকছে নিচে। 
আমি উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে নিচে এসে দাড়ালাম, তিন্নি আমার পেছন পেছন এসে পাশে দাড়ালো, আমি এগিয়ে যেয়ে খালার পাশের একমাত্র ফাকা যায়গাটায় বসে পড়লাম। ওদের বিয়ের ডেট ঠিক হয়ে গেলো।

এক সপ্তাহ পরে আক্কাসের বৌ হিসেবে তানিশা এই বাড়ি চলে এলো।
খালা তাকে বরণ করে নিলেন, আজ খুব কান্না করছেন খালা। তানিশা জিজ্ঞাসা করলো আমি আপনার ভাই বৌ, আপনার ছোট। আপনার কাছ থেকে ভালোবাসা চাই, কোনো অধিকার চাইনা। 
খালা বললেন, এমন বলোনা, আমার মেয়েটার কথা খুব মনে পড়ছে। 
তানিশা বললো, শিমুলকে বলেন ও কিছু করতে পারবে।
খালা বললেন কিভাবে বলি ওকে, আমি সাজিদকে জেলে পর্যন্ত পাঠিয়েছি। দেখি তাও শিমুলকে বলি।

খালা আমাকে ডেকে ১০০০০ টাকা হাতে দিয়ে বললেন, শিমুল নীলিমাকে খুব মনে পড়ছে। একটু ব্যাবস্থা কর। যাওয়ার সময় ওদের জন্য মিষ্টি নিয়ে যাস।
আমি আর কি করবো, নীলিমাকে নিয়ে আসলাম, সাজিদও এলো। ওরা এসেই খালাকে কদমবুসি করলো। খালা বললেন, "কি করে তোদেরকে ছেড়ে আমি থাকবো।" আক্কাস আর তানিশাও পাশে দাড়িয়ে আছে, ওদের চোখে ও পানি।
আমি বললাম, খালা আমরা স্যরি। খালা বললেন, কিসের জন্য।
আমি সব খুলে বললাম। খালা আমাকে বললেন থাক আর বলতে হবেনা, তুমি অনেক পেকে গেছো। তোমার ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
আমি বললাম, এখন সব দোষই তো আমার, ওকে ঠিক আছে। 
নীলিমা আপু, আমাকে বললেন, শিমু তুই কাল তোর দুলাভাইয়ের দোকানে আসিস কালকে। তোকে এক সেট জামা কাপড় দিবো।
আমি বললাম, না তোমাদের জামা কাপড় নিয়ে আমি কি করবো। আমার আছে। 
আপু বললো, তুই না আসলে আর কখনোই আমাকে আপু বলে ডাকবিনা। 
আমি বললাম, "জো হুকুম মহারানী" বলে হেসে বেরিয়ে এলাম।

পরিশিষ্টঃ
আমার, বাসায় এসে ঢুকতে ঢুকতে ১১ টা বেজে গেলো। খালা অবশ্য থেকে আসতে বলেছিলো কিন্তু আমার নিজের বিছানা ছাড়া ভালো ঘুম হয়না। ১১ টা ৩০ এর দিকে আবার কল বেজে উঠলো, একটা অচেনা নাম্বার, রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশের কন্ঠস্বরটি বললো, শিমুল তুমি কি আমাকে তোমার হাত দিয়ে ধরবে। আমি তোমার মুঠোর মধ্যে নিজের হাত দিতে চাই। তোমার বুকে মাথা রেখে তোমার মুখের উপর চুল গুলি ছড়িয়ে দিতে চাই। তোমার কোলে বসে তোমার বুকের ভেতরে ঢুকে যেতে চাই। আমাকে জড়িয়ে ধরে রাতের বেলা ঘুম পাড়িয়ে দেবে তুমি। অভিমান করবো তুমি আমার গাল টিপে দেবে। আমি মুখ ঘুরিয়ে নিবো, তুমি আমাকেই ঘুরিয়ে কোলে টেনে নেবে। আমার তপ্ত ঠোটে তুমি ঠোট রাখবে। আমি হারিয়ে যেতে চাই তোমার ভেতরে। কম্পমান আমার এই দেহটাকে তুমি শরীর দিয়ে আকড়ে ধরে রাখবে আর মন বেধে রেখো মনে। 

আমি বললাম, তুমি সত্যিই থাকবে তো।
ওপাশ থেকে বললো, "তুমি আমার চোখে তাকিয়ে দেখো এসে"
আমি বললাম, "আসবো দেখতে তোমার চোখ, তোমাকে আমি এখন থেকেই আমার মন পরি বানিয়ে নিলাম"
ও বললো কাল এসোনা বোটানিক্যাল গার্ডেনে, ন্যাশনাল জু এর পাশে। আমি থাকবো অপেক্ষায় তোমার। বলো কোন রং এর শাড়ি পরে আসবো।
আমি বললাম, নীল শাড়ি।
পরের দিন, হালকা আকাশী রং এর শার্ট আর জিনসের একটা প্যান্ট গায়ে চাপিয়ে, একটা পাঠাও বাইক নিয়ে চলে গেলাম বোটানিকাল গার্ডেনে। গেটের মুখ থেকে এক গুচ্ছ লাল গোলাপ কিনে নিলাম। ভেতরে ঢুকেই দেখি, আমার নিশী রাতের পরিটি বসে আছে একা এদিকেই চেয়ে। আমি কাছে যেতেই বললো কেমন আছেন আপনি। 
আমি বললাম, এখন আবার আপনি হলাম ক্যামনে। ওর হাতটি ধরে মুঠোর মাঝে নিলাম, ও উঠে দাড়ালো। আমরা হাটা শুরু করলাম।
ও বললো, ফুল গুলি কাকে দিবে তুমি।
আমি বললাম ফুল তো আমি হাতে নিয়েই ঘুরি, বলে ওর পেছনে গিয়ে গুচ্ছটা খুলে, চুলের খোপায় গুজে দিলাম একটা গোলাপ, ও আমাকে হ্যাচকা টান দিয়ে সামনে এনে ঠোটে একটা চুমু দিয়ে অস্ফুটে বললো, ভালোবাসি তোমাকে। 

[পাঠক পাঠিকারা নিশ্চই বুঝে গেছেন, শিমুলের নিশী রাতের পরিটি কে। লেখক তাদের জন্য শুভ কামনা করছেন, ভালো থাকুক তারা]

Writer: Md. Abidur Rahman, MBA form Institute of Business Administration (IBA), Dhaka University.