ক্রিং ক্রিং ক্রিং ফোনটা বেজেই চলছে। মাহিন ফোনটি রিসিভ করতেই ওপার থেকে ইকবাল বলে মামা কোথায় তুই?
This is a small attempt to capture the emotions that arise from the depths of my mind
Thursday, February 29, 2024
যদি চায়ের কাপেতে জমে নিরবতা
Thursday, November 24, 2022
গল্পঃ মাতৃরুপি বোন (Short Story)
নিলিমা মন খারাপ করে বাসায় ফিরে গেলো। আসলে ছোটো ভাইয়ের খেলা দেখতে তার ভালোই লাগে। কিন্তু তার ছোটো ভাই শুভ তাকে দেখলেই এমন বিহ্যাভ করে।
নিলিমা ঘরে এসে কান্না করতে থাকে। তার মনে পড়ে যায় ১০ বছর আগের কথা। যখন শুভ মাত্র চার বছর বয়সের। একদিন খেলতে খেলতে শুভ'র বাম চোখে একটা কঞ্চির মাথা ঢুকে যায় আর তার চোখটি অন্ধ হয়ে যায়। সবাই সেদিন শুভকে নিয়ে হাসপাতালে। ডাক্তার বললেন চোখ ট্রান্সপ্লান্ট করা পসিবল। কিন্তু কে শুভ কে চোখ দিবে। সবাই শুভ'র কেবিনে শুভকে ঘিরে কান্না করছে। এমন সময় নিলিমা বললো মা, আমি চোখ দিবো। আমার ভাইকে আমি জীবনের চেয়েও ভালোবাসি। আমার এক চোখ দিয়ে হলেও আমার ভাইকে আমি সুন্দর দেখতে চাই। নিলিমা কোনো বুঝ ই শুনলোনা। শেষ পর্যন্ত নিলিমার এক চোখের বিনিময়ে শুভ ফিরে পেলো দুই চোখ ভরে পৃথিবী দেখার অধিকার।
নিলিমার অনুরোধ রাখতে গিয়ে কেউই শুভ কে বলে নাই যে তার ছোটো বয়সে ওমন কিছু হয়েছিলো। তাই শুভ ভুলে গিয়েছে সব সময়ের সাথে সাথে।
সেদিন শুভ বাসায় ফিরে এসে রাতে খাওয়ার টেবিলে মা'কে বলে, "মা তোমার মেয়ে যেনো যখন তখন আমার বন্ধুদের সামনে না যায়। আর খেলার মাঠে যখন আমি খেলি ও যেনো না যায়।"
মা বললেন কেনো?
শুভ বললো ও গেলে সবাই কেমন চোখে তাকায়। আর আমার লজ্জা লাগে। আর বলোতো মা ওর এক চোখ নেই এটা দেখলে তো আমারই বিশ্রি লাগে। ও সবার সামনে ওভাবে না যেয়ে ঘরে বসে থাকলেই তো পারে।
নিলিমার চোখে পানি আটকালোনা, তবুও বললো। আচ্ছা ভাই। যাবোনা। তুই খেলিস। আমার চোখ নাই, দেখতে বিশ্রি লাগে আমি জানি। তাই আসলে আমার যাওয়াটাই ভুল হয়েছিলো। চুপ করে খেয়ে নে ভাই।
শুভ এরপরেও বলে, "শুন আপু আমার রুমেও রাত বিরাত আসবিনা। আর আসলেও বলে ঢুকবি। কারন হঠাৎ তোকে দেখলে আমার কেমন যেনো লাগে।"
নিলিমার চোখের পানি আরো বাড়লো, বললো ঠিক আছে ভাই। তোর ইচ্ছা মতই সব হবে।
এতক্ষণ সব কথা শুনলেন তাদের মা বাবা। কিছুই বললেন না। খাওয়া শেষ করে, শুভকে ডাকলেন মা বাবা। তার পরে প্রথমে নিলিমার একটা ছবি দেখালেন। শুভ বললো হায় আল্লাহ, এটা নিলিমা। তাইলে তার আরেক চোখ কই গেলো এখন। তখন তো দেখছি দুটা চোখ ই আছে। এখন কেনো নেই।
উত্তরে মা কিছু বললেন না।। তিনি আরেকটা ছবি দেখালেন তাতে দেখা যাচ্ছে, শুভ'র ছোট্ট বেলার একটা ছবি তাতে মা বাবা নিলিমা সবাই তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে হসপিটালের একটা বেডের পাশে। যেখানে শুধুমাত্র শুভ'র এক চোখ নেই। কিন্তু মা, বাবা, নিলিমা সবার চোখ ঠিক আছে।
শুভ শিউরে উঠলো। বললো কিভাবে আমার এ অবস্থা হয়েছিলো।
এবার মা কথা বললেন। কঞ্চির খোচায় এরকম হয়েছিলো।
মা আরো একটি ছবি বের করলেন তাতে দেখা যাচ্ছে আগের মতোই সবাই শুভ'র বেডের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। শুভর কানা চোখে একটি নতুন চোখ লাগানো হয়েছে। কিন্তু এবারের ছবিতে নিলিমার এক চোখ নেই।
শুভ ঘামতে লাগলো। সে মা কে বললো মা, আমার চোখ কিভাবে ফিরলো। আর নিলিমা আপুর চোখ কই গেলো।
মা আর জবাব দিলেন না। মায়ের দু গাল বেয়ে পানি পড়তে লাগলো। শুভ তাকিয়ে দেখে বাবা ও কান্না করছেন।
শুভ সব বুঝে গেলো এক নিমিষে। এক দৌড়ে সে নিলিমার ঘরে চলে গেলো। নিলিমা ঘুমিয়ে গিয়েছিলো। শুভ যেয়েই নিলিমাকে জড়িয়ে ধরলো, আর কান্না করতে লাগলো। শুভ'র ধাক্কায় নিলিমার ঘুম ভেঙে গেলো। সে উঠে বসে শুভকে বুকে টেনে নিলো আর বললো কি হইছ ভাই। এভাবে কান্না করছিস কেনো। কিছু দেখ ভয় পাইলি না-কি।
শুভ বলল, না আপু। শুধু একটা জবাব দাও। কেনো তুমি আমাকে সুন্দর করতে গিয়ে নিজে অসুন্দর হয়ে গেলে। নিলিমার দুচোখে জল চলে এলো। সে কিছুই বলতে পারলোনা। সে শুভ'র চোখের পানি মুছে দিলো নিজের ওড়না দিয়ে, আর শুধু বললো তুই যে আমার কলিজার টুকরা ভাই৷
পরদিন থেকে দেখা গেলো। নিলিমার হাত ধরে শুভ খেলার মাঠের এক কোনে বসে আছে। আর দুজনে মিলে সকলের খেলা দেখছে। নিলিমা অনেক বুঝিয়েও শুভকে খেলতে পাঠাতে পারলোনা। কারন সে আজকে আর খেলার মাঝে নয় বরং তার আপুর হাসিতেই আনন্দ খুঁজে পেয়েছে।
পৃথিবীর সকল বোনদের প্রতি লেখকের শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।
গল্পঃ নিশাচর। (Horor Short Story)
টাইপ- অনুগল্প।
মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো শিশিরের। কেমন যেনো একটা খস খস আওয়াজ হচ্ছে পাশের রুমে। শিশির উঠে বসে বিছানায়। সে ভাবে পাশের রুমে থাকা তার ভাইয়া ভাবি সম্ভবত উঠে কোনো কাজ করছেন। এমন সময় তার মনে পড়ে ভাইয়া ভাবি তো নেই। তারা সবাই তো বেড়াতে গেছেন দুইদিন পরে আসবেন। এই বাসায় তারা সম্প্রতি উঠেছে। চার তলার উপরে সিমসাম একটা ফ্লাট।
তো যাই হোক, শিশির ভাবলো উঠে দেখে আসি কিসে শব্দ করছে। শিশির হাতড়িয়ে তার মোবাইল টা খুঁজে। তার পর মোবাইল টা নিয়ে নিজের রুমের দরজা খু
লে তার ভাইয়া ভাবির রুমে যেয়ে আলো জ্বালতেই দেখে একটা বৃদ্ধ কঙ্কালসার মানুষ বসে আছে, দেখতে খুবই ভয়ানক। চোখ দুটি জ্বলছে লাল টকটকে হয়ে, লোকটি কঙ্কালসার হলেও তার গলার কাছ টায় কাটা সেখান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। শিশির কিছু ভেবে উঠার আগেই লোকটি শিশিরের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। শিশির ভয়ে জ্ঞান হারানোর উপক্রম সে তাড়াতাড়ি তার নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। আর ভাবে কি হচ্ছে এসব স্বপ্ন দেখছে না তো।
শিশির তার রুমের লাইট জ্বালাতে যায়। কিন্তু লাইট জ্বলছেনা। অথচ ফ্যান চলছে ঠিকই। শিশিরের রুমের সাথে একটা ব্যালকনি আছে। হঠাৎ সেদিকে নজর যায় শিশিরের। শিশির দেখতে পায় একটা লোমস শরীরের গরিলার মতো কেউ দাঁড়িয়ে আছে। শিশিরের দিকে লোমস শরীরের জীবটি তাকিয়ে হেসে দেয়। শিশির দেখতে পায় জীবটি আসলে ব্যালকনিতে নয় বরং সে ব্যালকনি সমান উচু। চার তলা বাসার নিচে থেকেই হয়তো দাঁড়িয়ে আছে।
সে দিকে তাকিয়ে শিশিরের সারা শরীর যেনো গুলিয়ে যায়। ধপাস করে নিচে বসে পড়ে, হঠাৎ দেখতে পায় খাটের নিচে একটা মেয়ে বসে আছে। মেয়েটার চোখ গুলাও লাল হয়ে আছে। আর তার গালের পাশে বিশাল একটা গর্ত। নিকষকালো অন্ধকারেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সব কিছু। শিশির জ্ঞান হারায়।
পরের দিন সকালে শিশিরের জ্ঞান ফিরে আসে নিজে থেকেই। তার ভাইয়া ভাবি তখনও আসেনাই। শিশির ভাবে এখন দিনের বেলা, রাতে কি সব স্বপ্ন দেখলাম। কারন শিশির অনেক সাহসী এ কথা সত্য। শিশির হাত মুখ ধুতে যায়। ওয়াশরুমের আয়নায় নিজেকে দেখতে থাকে। তখনই শিশিরের চোখের সামনে আয়নার ভেতরে কালকের সেই মেয়েটার ছবি দেখা যায়। শিশির যেই কিনা থুথু ফেলতে যায় বেসিনে সেই আয়না থেকে মেয়েটার একটা হাত বেরিয়ে আসে। শিশিরের মুখে প্রবল জোরে একটা থাপ্পড় দেয় মেয়েটা। শিশির প্রচন্ড ভয় পেয়ে চলে আসে আর কিচেন থেকে হাত মুখ ধুয়ে নেয়।
এখন শিশির আকাশ পাতাল ভাবতে শুরু করে। সে ভাবে এই ঘরে অশরীরী আত্মা আছে, কিন্তু কিভাবে আছে। কেনো আছে। কারন শিশির জানে যে এই সকল আত্মারা হয় কোনো প্রয়োজনে অথবা কোনো সুযোগ পেলেই থাকে। হয় তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করে দিলে অথবা তাদের থাকার সুযোগ নষ্ট করে দিলে তারা থাকতে পারেনা।
শিশির দিনের বেলাতে প্রতিটা রুম খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত কিছুই পায়না। তখন সে অন্যান্য ফ্লাটে সবাইকে জিজ্ঞাসা করে, কিন্তু সবাই বলে তোমার দেখার ভুল। আর সকলের কাছে জিজ্ঞাসা করে শিশির বুঝে যায় তাদের ফ্লাটের ভাড়া মাত্র হাফ অন্যান্য ফ্লাট থেকে।। শিশির বুঝে যায় যে শুধুমাত্র এই ফ্লাটেই সমস্যা আর এ জন্যই ভাড়া কম। কারন কেউ ই এই ফ্লাটে এসে থাকতে পারেনা।
শিশির বাড়ির দারোয়ানের কাছে তাদের ফ্লাট নিয়ে জিজ্ঞাসা করে।
দারোয়ান বলে, "তেমন কিছুই জানিনা। শুধু আজ থেকে ১১ বছর আগে ঐ ফ্লাট থেকে এক ভাড়াটিয়া পরিবার সবাই উধাও হয়ে যায়। তাদের লাশও পাওয়া যায়না যে নিশ্চিত হবে তারা নিহত। অথবা তারা কোথাও গেছে কিনা সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী সেটাও পাওয়া যায়না। অবশ্য আমাদের মালিক অনেক টাকা পয়সা খরচ করে ব্যাপারটা নিয়ে আর অগ্রসর হতে দেননি পুলিশ কে, কারন তাতে অন্যান্য ফ্লাটের সদস্য হারাতে হতো হয়তোবা।"
শিশিরের মনে খটকা লাগে। সে তার এক PBI এ চাকরি করা বন্ধুকে সব খুলে বলে। তার বন্ধু খুবই এক্সাইটেড ছিলো। ঐ দিনই সে শিশিরদের বাসায় চলে আসে। আর শিশিরের বাসার সব যায়গায় তন্নতন্ন করে খুঁজে। কিন্তু কিছুই পায়না। এমন সময় তাদের নজরে পড়ে আলমারির রাখার যায়গাটা। কারন যেখানে আলমারির রাখা সেই দেওয়াল টা অনেক উচু। দেখেই মনে হচ্ছে খুবই ODD, অথচ কোনো কারন ছাড়া এরকম দেয়াল উঁচু রাখার কোনো প্রয়োজন ছিলোনা। তখন শিশিরের ঐ বন্ধু তার ডিপার্টমেন্ট এ জানায়। পিবিআই তাদের টিম নিয়ে এসে হাজির। তারা দেওয়ালের ঐ অংশ ভেঙে সবাই তাজ্জব হয়ে যায়৷ কারন সেখানে তিনটি কঙ্কাল। একজন সিনিয়র অফিসার দেখেই বললেই এখানে একটি বৃদ্ধ, একটি যুবতি মেয়ে আর একটি যুবক ছেলের কঙ্কাল।
বাড়ির মালিক ও সব শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসলো। কিন্তু পিবিআই কর্মকর্তা গন তাকে গ্রেফতার করে নিলেন।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে বাড়ির মালিক সবকিছুই স্বীকার করে নিলেন যে এই খুনে তার হাত ছিলো।
তবে সেদিনের পর থেকে শিশিরের সাথে বা আর কারো সাথে ঐ ফ্লাটে কোনো অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনাই
Tuesday, April 14, 2020
ধূমকেতু একটি মহাজাগতিক বিস্ময়
![]() |
| ধূমকেতু- Comet |
![]() |
| হ্যালির ধুমকেতু- Hally's Comet |
![]() |
| Deep Impact মহাকাশযান থেকে তোলা Tempel 1 ধূমকেতুর নিউক্লিয়াসের ছবি। যেটির নিউক্লিয়াসটি চওড়ায় ৬ কিমি |




